কলকাতা

তৃণমূলের আইটি সেলের হেড অফিসে তদন্তে বাধা অভিযোগে রাজ্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ইডি, পাল্টা মামলা প্রতীক জৈনের

আইপ্যাকের ডিরেক্টরের বাড়িতে এবং দফতরে তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে রাজ্যের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ৷ বৃহস্পতিবার সকালে কয়লা পাচার মামলায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে এবং সংস্থার সল্টলেক দফতরে ইডি’র তল্লাশি চালায় ৷ এই দু’টি জায়গায় তল্লাশির সময় পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বেশ কিছু ফাইল, হার্ডডিস্ক ও ল্যাপটপ হাতে বেরিয়ে আসেন তিনি ৷ মমতার অভিযোগ, ইডি তৃণমূলের আইটি সেলের হেড অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে ৷ দলের প্রার্থিতালিকা ও রণকৌশল হাতিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷ এদিন সকালে তিনি প্রথমে লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন ৷ সেখানে হাজির হন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা ও পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা ৷ মুখ্যমন্ত্রী প্রতীকের বাড়ি থেকে একটি সবুজ ফাইল ও ল্যাপটপ হাতে বেরিয়ে আসেন ৷ সাংবাদিকদের কাছে ইডি’র বিরুদ্ধে তোপ দাগেন ৷ এরপর তিনি সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে পৌঁছন ৷ সেখানেও বেশ কিছু ফাইল, হার্ডডিস্ক নিয়ে বেরিয়ে আসেন ৷ এরপরই ইডি-র তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, এই তল্লাশির সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই ৷ একটি দীর্ঘ বিবৃতিতে ইডি পরিষ্কার জানায়, ইডি দেশের 10টি জায়গার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ছ’টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছিল ৷ এই অভিযান শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল ৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় এবং পুলিশের উচ্চ-আধিকারিকরা সেই তল্লাশি স্থলে এসে পৌঁছন ৷ তারা দু’টি জায়গা থেকে জবরদস্তি নথি এবং ইলেক্ট্রনিক প্রমাণ সরিয়ে নিয়ে যান ৷ এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি চায় ইডি ৷ আগামিকাল এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে ৷ আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী এদিন বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে আদালতের হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন ৷ ইডির অভিযোগ, তল্লাশি ও তদন্ত চলাকালীন বাধা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি একজন সাংবিধানিক পদের অধিকারী হয়ে আইন লঙ্ঘন করেছেন ৷ পাশাপাশি রাজ্যের পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল ৷ ইডি কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত করছে ৷ এ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা তল্লাশি চালানো হচ্ছে ৷ পুলিশের উচিত ইডির তদন্তে সহযোগিতা করা ৷ কিন্তু পুলিশ এখানে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ছিল ৷ বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানিয়েছেন, মামলার ফাইল ছাড়া তিনি এই বিষয়ে শুনানি করতে পারবেন না ৷ মামলা দায়ের করা হলে আগামিকাল তিনি এই বিষয়ে শুনানি করবেন ৷ বিচারপতি ঠিক এজলাস ছাড়ার আগেই তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইপ্যাকের আইনজীবীরা ৷ তখন এজলাসে উপস্থিত ছিলেন ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী ৷ তিনি ফের জানান, ইডির আধিকারিকদের তল্লাশি ও তদন্তের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে ৷ তখন বিচারপতিও আবার জানান, কোনও ফাইল ছাড়া তো আর তিনি মামলা শুনানি করতে পারেন না ! আগামিকাল দু’পক্ষের সব মামলার শুনানি হবে ৷