জেলা

মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গাসাগরে মনুষের ঢল, চলছে পুণ্যস্নান

আজ মকর সংক্রান্তি । সেই উপলক্ষে সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে শুরু করেছে গঙ্গাসাগরে। ঠান্ডার মধ্য়েই ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ভিনরাজ্য থেকেও এসেছেন বহু পুণ্যার্থী। কপিল মুনির আশ্রমে মানুষের ঢল।স্নানের পাশাপাশি সকাল থেকেই কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দেওয়ার জন্য ভক্তদের লম্বা লাইন চোখে পড়ছে। মানুষের ঢল নেমেছে রীতিমতো। তিলধারণের জায়গা নেই মন্দির চত্বরেও। ভিড় সামলাতে মেলা চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক হাজার পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর প্রশাসন। ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে চলছে কড়া নজরদারি। বিশেষ করে স্নানের ঘাটে কোনওরকম দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, তার তদারকি করতে সিভিল ডিফেন্স ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং নৌবাহিনী জলপথে টানা টহল দিচ্ছে। মাহেন্দ্রক্ষণ বুধবার দুপুর দেড়টা। বিশ্বাস, সেই সময় গঙ্গাস্নান করলে মোক্ষলাভ হয়। তবে মাহেন্দ্রক্ষণের আগে, মঙ্গলবার ভোর থেকেই লক্ষাধিক পুণ্যার্থী সাগরস্নানে নেমে পড়েছেন। স্নান শেষে কপিলমুনি আশ্রমের সামনে দেখা গিয়েছে দীর্ঘ লাইন। প্রশাসনের তরফে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। আজ, বুধবার দিনভর আরও বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর আগমন ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও জেলায় জেলায় নদীর ঘাটে মানুষের ভিড় জমেছে। সকাল থেকেই ঘাটালের কংসাবতী এবং মেদিনীপুরের শিলাবতী নদীতে স্নান করতে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে বসেছে মেলাও। পুণ্য অর্জনের আশায় জেলায় জেলায় বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছেন সকাল থেকেই। মকর স্নানের জন্য দূর দূরান্ত থেকে মানুস এসে জমা হয়েছেন ঘাটাল মহকুমার শিলাবতী নদীর ঘাটে। নদীর তীরে বসেছে মেলাও। সেই মেলাতেই বিকোচ্ছে বাঁশের ঝুড়ি, বেতের কুলো, লোহার তৈরি নানা জিনিসপত্র। একই ভাবে ভিড় দেখা যাচ্ছে মেদিনীপুর শহরের কাছে কংসাবতী নদীর গান্ধীঘাটে। ভোর থেকেই ঢল নেমেছে মানুষের। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে শহরের জগন্নাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকাতে বসেছে মেলাও। অন্যদিকে ভিড় জমেছে বীরভূমের অজয় নদেও। পুণ্যস্নান উপলক্ষে প্রতি বছরই জয়দেব কেন্দুলির অজয় নদে বহু মানুষের সমাগম হয়। এ বছরও তার ব্যাতিক্রম নয়। পুণ্যার্জনের আশায় ভোর থেকেই জড়ো হয়েছেন মানুষ। মেলায় ভিড় সামলাতে পুলিশের বড় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মকর স্নান উপলক্ষ্যে হিংলো জলাধার থেকে ২০০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, রামচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ইক্ষাকু বংশের রাজা সাগর ঋষি ঔর্বের নির্দেশে শত অশ্বমেধ যজ্ঞ করার সিদ্ধান্ত নেন। কথিত রয়েছে, কেউ একশো অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পূর্ণ করলে সে সমগ্র পৃথিবীতে আধিপত্য অর্জন করতে পারে। একমাত্র দেবরাজ ইন্দ্র রাজা সাগরের আগে শত অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পন্ন করেছিলেন। সাগরের শত অশ্বমেধ যজ্ঞের সঙ্কল্প শুনে উদ্বিগ্ন ইন্দ্র  যজ্ঞের অশ্ব কপিল মুনির আশ্রমে লুকিয়ে রাখেন। পুরাণ মতে, ক্ষিপ্ত সাগর তাঁর ষাট হাজার পুত্রকে নিখোঁজ ঘোড়াটির সন্ধানে পাঠান। ধ্যানরত কপিল মুনির আশ্রমে পৌঁছে তাঁরা অশ্বটি খুঁজে পেয়ে কপিল মুনির ধ্যানভঙ্গ করে। তাঁকে অপমান করে। ক্রুদ্ধ কপিল মুনি চোখ খুলে সাগরের সব পুত্রকে ভস্ম করেন। পরে সাগরের বংশধর অংশুমান কপিল মুনিকে তুষ্ট করবার জন্য তপস্যা করেন। সন্তুষ্ট কপিল মুনি অশ্বটিকে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। কপিল মুনির কাছ থেকে অংশুমান জানতে পারেন, গঙ্গার পবিত্র জলে শ্রাদ্ধকাজ করলে তবেই সাগরের পুত্রদের আত্মাদের মুক্তি হবে। অংশুমানের পুত্র দিলীপ। দিলীপের পুত্র রাজা ভগীরথ ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর আরাধনা করে গঙ্গাকে মর্ত্যে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পান। তিনি গঙ্গার পবিত্র জলে তাঁর ষাট হাজার পূর্বপুরুষের আত্মার শ্রাদ্ধ করেন ও তাঁরা মুক্তি পান। তাই মনে করা হয়, মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে গঙ্গাস্নান করলে মোক্ষলাভ সম্ভব।