মূল্যবৃদ্ধি আর মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন শাসকের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানে বসবাসকারী ভারতীয় পড়ুয়া, তীর্থযাত্রী ও পর্যটক সহ সমস্ত নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিল তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস। বুধবার এক জরুরি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, তাই বাণিজ্যিক বিমানে যত দ্রুত সম্ভব ভারতে ফিরে আসা প্রয়োজন। গত ২০ দিন ধরে ইরানের প্রায় ২৮০টি স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে এই গণবিক্ষোভ। সূত্রের খবর, পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২,৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে। ট্রাম্প সরাসরি আন্দোলনকারীদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “সাহায্য আসছে।” ট্রাম্পের এই বার্তার পরই জল্পনা শুরু হয়েছে- তবে কি ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে চলেছে আমেরিকা?
নয়াদিল্লি থেকে জারি করা নির্দেশিকায় ভারতীয়দের চরম সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। যারা এখনই দেশ ছাড়তে পারছেন না, তাঁদের পাসপোর্ট সহ প্রয়োজনীয় ভ্রমণ ও পরিচয়পত্র হাতের কাছে রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা এখনও দূতাবাসে নাম নথিভুক্ত করেননি, তাঁদের দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য খোলা হয়েছে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কাতারে অবস্থিত আমেরিকার বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি ‘আল উদাইদ’ থেকে অনেক কর্মীকে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছর জুনে ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলার আগেও ঠিক একইভাবে বেস খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের ওপর বড় কোনো সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াইট হাউস।


