দেশ

মুম্বই যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেখা করবেন উদ্ধব-পাওয়ারের সঙ্গে, বৈঠক শিল্পপতিদের সঙ্গেও

আগামীকাল দিল্লি সফর শেষ করে রাজ্যে ফিরছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বুধবার সন্ধ্যায় তিনি এই কথা জানিয়েছেন ৷ তবে রাজ্যে ফিরেও তিনি বেশিদিন থাকছেন না ৷ আগামী ৩০ তারিখ মুম্বইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩০ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর মমতা থাকবেন বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়ে ৷  দু’দিনের সফরে রয়েছে ঠাসা কর্মসূচি। শিল্পপতিদের বাণিজ্য সম্মেলনে আহ্বান জানাবার কথা তাঁর। তৃতীয়বারের জন্য সরকারে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল লক্ষ্য শিল্প। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও এই সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন মমতা। যেহেতু কেন্দ্রে এখন বিজেপি সরকার। তাই শিল্পপতিদের বিনিয়োগ অনেকটাই কেন্দ্রের নির্দেশেই হয়। সেই কারণেই মোদিকে বাণিজ্য সম্মেলনে ডেকে দেশের সমস্ত শিল্পপতিদের জন্য বাংলার দরজা খুলে দিলেন মমতা।  আগামী ২০ ও ২১ এপ্রিল রাজ্যে বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন, আর সেখানেই বিনিয়োগ টানতে দেশ-বিদেশের শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার মধ্যে তাঁর প্রথম সফর শুরু হচ্ছে মুম্বই দিয়ে। চারদিনের দিল্লি সফর শেষ করে মুম্বই উড়ে গিয়ে একাধিক শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মমতা। তালিকায় মুকেশ আম্বানি, অনিল আম্বানি, লক্ষ্মী মিত্তল ও জিন্দাল গোষ্ঠীরা যেমন রয়েছেন তেমনই বৈঠক হতে পারে গৌতম আদানির সঙ্গেও। কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদি বিরোধী হলেও কোনও শিল্পপতির বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি কোনওদিন। মুম্বই সফরে রাজনৈতিক কাজও রয়েছে মমতার। কংগ্রেস বাদে দিল্লিতে মোদি বিরোধিতা নিয়ে আলোচনা করার কথা মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে। আলোচনা হবে এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের সঙ্গেও। এই বিষয়ে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে জানিয়েছেন, ‘আমি মুম্বই যাচ্ছি। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে ও শরদ পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করব।’ হাতে আর সময় বেশি নেই, ২০২৪ দিল্লি দখলের লড়াই শুরু হয়ে যাবে ২০২২ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের পরবর্তীতেই। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, “রাজ্যের প্রায় ৬৩ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। সেই টাকা দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। ইয়াস-আমফান-সহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের টাকাও বকেয়া রয়েছে। সেই টাকাও চেয়েছি। প্রাপ্য টাকা না পেলে রাজ্য চালাব কী করে? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।”  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “বিএসএফ আমাদের বন্ধু। ওঁরা সীমান্তে কাজ করে। কিন্তু ওঁদের ক্ষমতাবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছি। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত সমস্যা হয় অনেক সময়।” এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিএসএফের গুলি চালানোর ঘটনার উল্লেখ করেন তিনি। এর পরই বলেন, “দেশে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো আছে। তার অহেতুক অবনতি করা ঠিক নয়। বিএসএফের ক্ষমতাবৃদ্ধির আইন প্রত্যাহার করুন।” তবে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনও মন্তব্য করেননি বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয় দু’জনের মধ্যে। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের কোভিড টিকা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের আরজিও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আরজি, “স্কুল, কলেজ খুলে গিয়েছে। দ্রুত তাঁদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।” এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো শক্ত করার আরজিও জানিয়েছেন তিনি।

https://www.facebook.com/MamataBanerjeeOfficial/videos/585223979261498