জনসমর্থ না পেয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার বিজেপির? তদন্তের নামে প্রতিপক্ষের নথি হাতানোর চেষ্টা? বাংলায় দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিধানসভা ভোট। তার ঠিক মুখে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর কলকাতায় একাধিক অভিযান ঘিরে উঠে গেল এই প্রশ্ন। এনিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশলের নথি হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের প্রধান প্রতীক জৈন। তাঁর সংস্থা আইপ্যাক রাজ্যের শাসকদলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছে। এদিন সকাল থেকে প্রতীক জৈনের কলকাতার লাউডন স্ট্রিটের বাসভবন ও আইপ্যাকের সল্টলেক সেক্টর ফাইভের দপ্তরে অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। খবর পেয়ে দুপুরে প্রতীকের বাসভবনে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর কয়েক মিনিট আগে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। আইপ্যাকের কর্ণধারের বাসভবন থেকে বেরনোর সময় মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ফাইল-হার্ডডিস্ক দেখা যায়। এর পরে সল্টলেকে আইপ্যাক অফিসে গিয়েছেন তিনি। প্রতীক জৈনের বাসভবন থেকে বেরিয়ে সল্টলেকে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মমতা। ফাইল দেখিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সেগুলি তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন বলেও জানান। এর রেশ ধরে এসআইআর ইস্যুতেও এদিন সুর চড়িয়েছেন মমতা। অন্যায়ভাবে যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সাধারণত অভিষেক প্রচার শেষে রাতে কলকাতায় ফিরে এলেও বুধবার রাতে তিনি ফেরেননি। দুই দিনাজপুরে কর্মসূচির পর মালদহেই ছিলেন । আর বৃহস্পতিবার ভোরেই শুরু হয় ইডি অভিযান – যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে । এই ঘটনার ফলে নির্বাচনের আগে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি কিছুটা হলেও ‘রাজনৈতিক অক্সিজেন’ পাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল । রাজ্য বিজেপির একাংশের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি বারবার তলব করলেও শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করা হয়নি । সেই আবহেই, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা সফরের এক সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল । ঘটনাচক্রে, বৃহস্পতিবারই কলকাতায় এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা । তাঁর সঙ্গে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের বৈঠক হওয়ার কথা । তার ঠিক আগের দিন আইপ্যাকের দফতরে ইডি হানা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে ৷