24 মার্চ ভারতে সোনা ও রুপোর দামে ব্যাপক ধস নেমেছে ৷ কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম টানা চতুর্থ সপ্তাহেও কমছে। সোমবার ভোরে, স্পট সোনার দাম 3-4 শতাংশ কমে 4,400 ডলারের নিচে নেমে আসে ৷ অন্যদিকে, স্পট রুপোর দামও 3-4 শতাংশ কমে প্রতি আউন্স প্রায় 65 ডলারে এসে পৌঁছায়। বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডে (MCX) সোনার দাম প্রায় 6 শতাংশ কমে 1.37 লক্ষ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে যায়। অন্যদিকে, এমসিএক্স-এ রুপোর দাম প্রায় 14,000 টাকা কমে 2.13 লক্ষ টাকার নিচে নেমে আসে। দেশে সোনা ও রুপোর দাম মার্চ মাসে এখনও পর্যন্ত প্রায় 12 থেকে 17 শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলা যুদ্ধের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ফলে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলা উত্তেজনার কারণে সোনা ও রুপোর দাম কমেছে। রুপোর দাম 20,400 টাকা কমেছে, যেখানে সোনার দাম প্রতি 10 গ্রামে 1.34 লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী সোনার দাম তীব্রভাবে কমেছে, যা গত 40 বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন। রুপোর দাম প্রতি কেজিতে 20,400 টাকা কমে 2.06 লক্ষ টাকায় লেনদেন করেছে। সোনার দাম প্রতি 10 গ্রামে 9,759 টাকা কমে 1.34 লক্ষ টাকায় নেমেছে। সোমবার সকাল 10টা 30 মিনিট নাগাদ, প্রতি কেজি রুপোর দাম 11,000 টাকারও বেশি কমে যায়। সোনার দামও প্রতি 10 গ্রামে প্রায় 7,000 টাকা কমে যায়। সকাল 10টা 35 মিনিট নাগাদ 1 কেজি রুপোর দাম প্রায় 2,10,000 টাকায় নেমে আসে। এই পতনের ধারা অব্যাহত থাকলে রুপোর দাম শীঘ্রই 2 লক্ষ টাকায় নেমে আসবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা-রুপোর দাম
গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী সোনার দাম তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা বিগত 40 বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন। প্রতি আউন্স সোনার দাম 5,200 ডলার থেকে কমে 4,354 ডলারে নেমে এসেছে। ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শক্তিশালী ডলারের কারণে উভয় মূল্যবান ধাতুর উপরেই বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
কমেক্সে সোনা-রুপোর দাম
কমেক্সে সোনার দাম প্রায় 3 শতাংশ কমে প্রতি আউন্স 4,462 ডলারে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে সোনার দাম ইতিমধ্যেই প্রায় 11 শতাংশ কমে গিয়েছিল, যা 1983 সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন। এদিকে, লেনদেনের সময় রুপোর দামও প্রায় 3 শতাংশ কমে প্রতি আউন্স 67.5 ডলারে নেমে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর তেল বাজারে অস্থিরতা তীব্রতর হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী সচল না হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে হামলা হতে পারে। এর জবাবে ইরান পাল্টা হুমকি দিয়েছে যে, তাদের উপর হামলা হলে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি সম্পূর্ণভাবে অবরোধ করে রাখবে এবং জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও জল সরবরাহ পরিকাঠামোকে তাদের প্রত্যাঘাতের লক্ষ্যবস্তু বানাবে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে সোনা-রুপো, অপরিশোধিত তেল-সহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ৷

