দেশ

বিনোদন
বিদেশ
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
জ্যোতিষ
কলকাতা
দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতি-কাণ্ডে নয়া মোড়! এবার ইন্দ্রনীলের মেয়েকে তলব লালবাজারে
দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতি-কাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় ৷ এবার লালবাজারের আতশকাচের নীচে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ে । পাস দুর্নীতিতে সরাসরি আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে সোমবারই তাঁকে তলব করেছে কলকাতা পুলিশ । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লালবাজারের এক আধিকারিক বলেন, “নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে বেশ কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছে । টেন্ডার জালিয়াতি ও পাস বিক্রির থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটা বড় অংশ তাঁর মেয়ের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়েছিল বলে আমরা দেখতে পেয়েছি । এই দুর্নীতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি ঠিক কতটা গভীরভাবে যুক্ত বা কেবল টাকার লেনদেনেই তাঁর নাম সীমাবদ্ধ ছিল কি না-তা খতিয়ে দেখতেই তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।” দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস দুর্নীতি মামলা ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় উঠেছে । ২৮ অক্টোবর বিগত তৃণমূল সরকারের প্রভাবশালী নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ । সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি-র আধিকারিকদের ম্যারাথন জেরার মুখে পড়েন তিনি ৷ ইডি দফতর থেকে বেরলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় । বউবাজার থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল ৷ তারপ ভিত্তিতে প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ ৷ ২৯ অক্টোবর ইন্দ্রনীল সেনকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয় ৷ ইন্দ্রনীল সেনকে ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক ৷ তিনি ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতেই রয়েছেন ৷ ঘটনাটি এখানেই থেমে নেই ৷ তদন্তের জাল ক্রমশ ছড়াচ্ছে তাঁর পরিবারের অন্দরেও। মূল অভিযুক্ত ইন্দ্রনীল সেনকে হেফাজতে নিয়ে জেরার পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী মধুছন্দাকেও দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা । আর সেই ধারাবাহিকতায় এবার লালবাজারে তলব করা হয়েছে ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকে ৷ পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর সময় শহরের বিভিন্ন বড় পুজোর ভিআইপি ও ভিভিআইপি পাস পাইয়ে দেওয়া এবং বেআইনিভাবে মেলা ও স্টলের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক বিশাল তোলাবাজির চক্র চালানো হচ্ছিল । অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে বেআইনিভাবে টেন্ডার পাস করিয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে দফায় দফায় তোলা হয়েছে কোটি কোটি টাকা । এই দুর্নীতির বিপুল অংকের টাকা শুধুমাত্র ইন্দ্রনীল সেন একা আত্মসাৎ করেননি বলে অভিযোগ । হিসাব ও নথিপত্র পরীক্ষা করে গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, ওই দুর্নীতির টাকার একটা বড় অংশ সরাসরি লেনদেন করা হয়েছে তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও, যার মধ্যে প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হয়েছেন তাঁর মেয়ে । ইতিমধ্যেই লালবাজারে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দাকেও । পরিবারের বাকি সদস্যদের বয়ানের সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের বয়ান মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলছে । তদন্তকারী দলের দাবি, এই কোটি কোটি টাকার পাস ও টেন্ডার জালিয়াতির শিকড় আরও অনেক গভীরে ছড়ানো । কত বছর ধরে এই বেআইনি লেনদেন চলছিল এবং এর পিছনে আর কোন কোন হেভিওয়েট যুক্ত রয়েছেন, তা জানার জন্য লালবাজারের গোয়েন্দারা লাগাতার জেরা চালিয়ে যাচ্ছেন । সোমবার ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ের লালবাজারে হাজিরার ওপরই নজর রয়েছে তদন্তকারীদের, কারণ তাঁর বয়ানের ওপর ভিত্তি করেই দুর্নীতির আরও একাধিক গোপন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরস্পরের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন ৷”
জেলা
গ্রেফতার গোপীবল্লভপুরের পরাজিত মমতা তৃণমূলের প্রার্থী অজিত মাহাতো
বন দপ্তরে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বেকার যুবকের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠল ঝাড়গ্রামের এক স্থানীয় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে । এই ঘটনায় অভিযুক্ত অজিত মাহাতো নামক ওই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। শুক্রবার ধৃতকে মহকুমা আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবা এলাকার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সি সজল দাস (পিতা লক্ষ্মীকান্ত দাস) এই মর্মে ঝাড়গ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জানানো হয়, অভিযুক্ত অজিত মাহাতো নিজের রাজনৈতিক প্রভাব এবং রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা বলে সজলকে বন দপ্তরে স্থায়ী সরকারি চাকরি দেওয়ার ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে চার দফায় মোট ১০ লক্ষ টাকা অভিযুক্তের হাতে তুলে দেন ওই যুবক। সজল দাসের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৯ অক্টোবর ঝাড়গ্রাম থানায় ৪৭৪/২০২৬ নম্বরে একটি মামলা রুজু করে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩১৮(২), ৩১৮(৪), ৩০৮(৫), ৩৫১(৩), ১১১(৩) এবং ৬১(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার রাতে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অজিত মাহাতোকে তাঁর নিজস্ব বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করে।
আজ শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ধৃতকে আদালতে তুলে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হচ্ছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, ঠিক কতজন যুবকের কাছ থেকে এভাবে টাকা তোলা হয়েছে এবং আত্মসাৎ করা সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় পাচার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
খেলা
ভারতের বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের
ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রাঁচির মাঠে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে শাই হোপের দুর্দান্ত শতরান এবং শার্ফেন রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদে ভারতের দেওয়া বিশাল রান তাড়া করে ৬ উইকেটে জয় তুলে নিল ক্যারিবিয়ানরা (India vs West Indies)। এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে সফল রান তাড়ার নতুন রেকর্ড। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৯ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোর দাঁড় করায় টিম ইন্ডিয়া। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ময়ঙ্ক যাদবের জোড়া ধাক্কায় ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সেখান থেকে দলের ইনিংসের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন শাই হোপ। মাত্র ৪৫ বলে ১০২ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন শার্ফেন রাদারফোর্ড, যিনি মাত্র ৩৭ বলে ৮৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দেন। এই দুই ব্যাটার ভারতের বোলিং আক্রমণকে পাত্তাই না দিয়ে ১৮.৩ ওভারেই ৪ উইকেটের বিনিময়ে ২৫২ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় এবং পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরায়।
ভাইরাল
যৌনকর্মের পেশা সরকারি স্বীকৃতির দাবি মডেল-অভিনেত্রী পুনম পাণ্ডের, বললেন এটি ‘সমাজসেবা’
বিতর্ক আর পুনম পান্ডে যেন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত এই তারকা নিজের নানা কর্মকাণ্ড ও খোলামেলা মন্তব্যের কারণে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন। এবার যৌনকর্মের পেশাকে সরকারি স্বীকৃতি ও আইনি কাঠামোর আওতায় আনার পক্ষে মত দিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে সমাজে নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ কমানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে কথা বলেন পুনম। সেখানেই তিনি বলেন, বর্তমানে পুরুষদের মধ্যে মানসিক চাপ অনেক বেড়েছে। তার মতে, যৌনকর্মকে সরকারিভাবে বৈধতা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনা হলে নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অনেক অপরাধ কমানো সম্ভব হতে পারে। নিজের বিভিন্ন খোলামেলা ভিডিও নিয়েও কথা বলেন পুনম। এসব ভিডিও তৈরি করাকে তিনি অন্যায় বা ‘পাপ’ বলে মনে করেন না। বরং তার দাবি, এর মাধ্যমে এক ধরনের ‘সমাজসেবা’ করছেন তিনি। পুনমের ভাষ্য, সারাদিনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তির পর কেউ যদি তার ভিডিও দেখে কিছুটা মানসিক স্বস্তি পান, তাহলে সেটিকে তিনি মানুষের উপকার হিসেবেই দেখেন। সমালোচকদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে পুনম আরও দাবি করেন, যারা প্রকাশ্যে তার কাজের নিন্দা জানান, তাদের অনেকেই গোপনে তার ভিডিও উপভোগ করেন। মানুষের এই দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন বলেও জানান। পুনমের এসব বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ তার মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ আবার এটিকে আলোচনায় থাকার আরেকটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। এর আগেও বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছিলেন পুনম পান্ডে। ২০২৪ সালে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা তৈরির কথা বলে নিজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এই অভিনেত্রী। নতুন মন্তব্যের মাধ্যমে ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত পুনম পান্ডে।

