জেলা

অবসরের ৪৮ ঘণ্টা আগেই ঝাড়খণ্ডে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু বাংলার এক লোকো পাইলটের

দু’টি পণ্যবাহী ট্রেনের মধ্যেম মুখোমুখি সংঘর্ষের জেরে মৃত্যু হল দুই লোকো পাইলটের ৷ আহত হয়েছেন 4 জন ৷ দুর্ঘটনার জেরে ট্রেন দু’টিতে আগুন ধরে যায় ৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোররাতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের বারহাইট থানা এলাকার ভোগনাডিহির কাছে ৷ এই দুর্ঘটনার সঙ্গে অবশ্য ভারতীয় রেলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ ৷ দু’টি ট্রেনই ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন-এর ৷ রেল ট্র্যাকটিও এনটিপিসি’র ৷ সংস্থার পণ্যবাহী ট্রেন ওই রেল ট্র্যাক দিয়ে কয়লা নিয়ে যাতায়াত করে ৷ সাহেবগঞ্জের এসডিপিও কিশোর তির্কে বলেন, “দু’টি পণ্যবাহী ট্রেনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় দু’টি ট্রেনেরই চালকের মৃত্যু হয়েছে ৷” মৃতদের মধ্যে একজন অম্বুজ মাহাতো (৩২) ৷ তিনি বোকারো জেলার বাসিন্দা ৷ আরেক লোকো পাইলট গঙ্গেশ্বর মাল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে থাকতেন ৷ লোকো পাইলট হিসাবে সুনাম ছিল গঙ্গেশ্বর মা। তাই চাকরিজীবনের মেয়াদবৃদ্ধি হয়েছিল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা গঙ্গেশ্বর মালের। মঙ্গলবারই ছিল চাকরিজীবনের শেষ দিন। শেষ বারের মতো মালগাড়ির চালকের আসনে ছিলেন গঙ্গেশ্বর। সেটাই হল তাঁর জীবনের শেষ দিন! সহকর্মীরা যখন তাঁর অবসরজীবনের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার বারহাইটে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৬৫ বছরের ওই ইঞ্জিন চালকের। সূত্রে খবর, ২০২০ সালে চাকরিজীবনের মেয়াদ শেষ হয়েছিল গঙ্গেশ্বরের। পরে আরও পাঁচ বছরের ‘এক্সটেনশন’ হয় ট্রেনচালকের। ৩১ মার্চ ছিল কর্মজীবনের শেষ দিন। ঝাড়খণ্ড থেকে আজিমগঞ্জ জংশনে ফিরে ট্রেন ইঞ্জিন জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেওয়ার কথা ছিল গঙ্গেশ্বরের। সহকর্মীরা ফরাক্কা ও আজিমগঞ্জে পৃথক ভাবে দুটি বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। ঠিক সেই সময় গিয়ে পৌঁছোয় গঙ্গেশ্বরের মৃত্যুসংবাদ।