দেশ

পেট্রোপণ্যে জিএসটির প্রস্তাব খারিজ, সুইগি ও জোম্যাটোর উপর কোনও কর চাপানো হচ্ছে না

আকাশ ছোঁয়া পেট্রল-ডিজেলের দাম। একশো টাকা ছাড়িয়েছে পেট্রোপণ্যের মূল্য। এখনই জিএসটির আওতায় আসছে না পেট্রল-ডিজেল। শুক্রবার এই কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। পেট্রোপণ্য নিয়ে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ রাজ্যগুলির বিরোধিতার জেরেই থমকে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, শুক্রবার লখনউয়ে ৪৫তম জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে পেট্রোপণ্যকে জিএসটির আওতায় আনার প্রস্তাব দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। কিন্তু এই প্রস্তাবের বিরোধিতায় একযোগে সরব হয়েছে বেশ কয়েকটি রাজ্য। বিরোধিতায় অংশ নেয় খোদ বিজেপি শাসিত একনধিক রাজ্যে। তাই আপাতত পেট্রল ও ডিজেল জিএসটির আওতার বাইরেই থাকছে। যার জেরে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এদিন সংবাদমাধ্যমর নির্মলা জানিয়েছেন, করোনার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দামি ওষুধে জিএসটি ছাড় দেওয়া হয়েছে। ‘Zolgensma’ ও ‘Viltepso’ এমনই দু’টি ওষুধ। একইসঙ্গে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত করোনার ওষুধে কর ছাড়ের কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে সুইগি ও জোম্যাটোর উপর কোনও কর চাপানো হচ্ছে না। কিছুদিন আগে পেট্রোলিয়াম দপ্তরের প্রাক্তন মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, দু’ জনেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবার পেট্রল-ডিজেলকে জিএসটির আওতায় আনতে পারে কেন্দ্র। ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছিলেন, কেন্দ্র সরকার শুরু থেকেই পেট্রল এবং ডিজেলকে জিএসটি কাউন্সিলের আওতায় আনার পক্ষে। এতে সাধারণ মানুষের উপকার হবে। তবে, এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরিই জিএসটি কাউন্সিলকে নিতে হবে। অন্যদিকে নির্মলা জানিয়েছিলেন, পেট্রোপণ্যের উত্তরোত্তর মূল্যবৃদ্ধি উদ্বেগজনক। দাম কমাতে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা পেট্রল-ডিজেলকে জিএসটির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। তবে সেটা নির্ভর করছে জিএসটি কাউন্সিলের উপর।কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী পেট্রোপণ্যকে জিএসটির আওতায় আনার কথা বললেও এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জিএসটি কাউন্সিল। কারণ, জিএসটি কাউন্সিলে কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্যগুলির প্রতিনিধিরাও আছেন। পেট্রোপণ্যকে পণ্য ও পরিষেবা করের আওতায় আনতে চাইলে রাজ্যগুলি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। আজ সেই আশঙ্কায় সত্যি হল। এমনিতেই পেট্রোপণ্যে রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি কর পায় কেন্দ্র। তার উপর জিএসটির আওতায় এলে রাজ্যের লভ্যাংশ আরও কমবে। অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে পেট্রোলিয়াম ক্ষেত্র থেকে ভ্যাট বাবদ কেন্দ্রের আয় হয়েছে ৩ লক্ষ ৭১ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। রাজ্যের আয় হয়েছে ২ লক্ষ ২ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন তারা। ইতিমধ্য়ে এই আশঙ্কায় সরব হয়েছেন মহারাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। এই বিষয়ে তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়ও। তিনি বলেন, “যদি হঠাৎ বিজেপি সরকার জোর করে এটা করে তবে তা সঠিক হবে না।” ২০১৭ সালে যখন জিএসটি চালু হল, তখন মূলত রাজ্যগুলির আপত্তিতেই পেট্রোপণ্যকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।