কেরলে কর্মরত স্বামী ৷ একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ঘরে থাকেন স্ত্রী ৷ সেই গৃহবধূকেই ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এলাকার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে ৷ শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ করায় ওই বধূর কাকাশ্বশুর ও দেওরকে বেধড়ক মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ ৷ এই ঘটনায় নির্যাতিতা বধূ স্থানীয় থানায় ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ৷ থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার কথা জানাজানি হতেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার আত্মীয়রাও নির্যাতিতা বধূ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশে পালটা অভিযোগ দায়ের করেছেন ৷ পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি ৷ এতেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও শাসকদলের নেতার বিরুদ্ধে কোনও পুলিশি পদক্ষেপ করা হচ্ছে না? পুলিশ অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ৷ গোটা ঘটনায় বিরোধীদের যড়যন্ত্র দেখতে পাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব ৷ ঘটনাটি মালদার গাজোল থানা এলাকার একটি গ্রামের ৷ ধর্ষণে অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতা এলাকায় প্রভাবশালী হিসাবেই পরিচিত ৷ ৩৩ বছর বয়সি নির্যাতিতা বধূর বক্তব্য, “আমার স্বামী এখন কেরলে কাজ করছে ৷ বাচ্চাকে নিয়ে আমি ঘরে একাই থাকি ৷ রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া আমার অভ্যেস ৷ রবিবার রাত ১০টা নাগাদ ওই তৃণমূল নেতা আমার ঘরে ঢুকে পড়ে ৷ ঘরে ঢুকেই সে আমাকে জড়িয়ে ধরে ৷ প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে সে ৷” গৃহবধূর কথায়, “প্রথমে সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে চুপ করে থাকলেও পরে আমি চিৎকার শুরু করি ৷ আমার চিৎকার শুনে পাশের বাড়ি থেকে আমার ৬৩ বছর বয়সি কাকাশ্বশুর আর ২৭ বছর বয়সি দেওর ছুটে আসে ৷ তারা ওই নেতাকে ধরে ফেলে ৷ আমার কাছে গোটা ঘটনা শুনে তারা প্রতিবাদ জানাতে থাকে ৷ সেই সময় ওই নেতা ফোন করে তার লোকজনকে খবর দেয় ৷ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তার পরিবারের লোকজন আমাদের বাড়িতে চলে আসে ৷ আমার কাকাশ্বশুর আর দেওরকে বেধড়ক মারধর করে তারা অভিযুক্ত নেতাকে ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যায় ৷ ওদের মারে কাকাশ্বশুরের মাথা ফেটে যায় ৷ পরে পরিবারের সবার সঙ্গে আলোচনা করে আমি গোটা ঘটনা জানিয়ে পঞ্চায়েত সদস্য-সহ মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি ৷” এই খবর চাউর হতেই অভিযুক্ত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের স্ত্রী নির্যাতিতা বধূর কাকাশ্বশুর সহ আরও দু’জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ৷ তাঁর দাবি, “আমার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ৷ উলটে রাজনৈতিক আক্রোশবশত ওই বধূর কাকাশ্বশুর, ছেলে-সহ কয়েকজন আমার ভাসুরের ছেলেকে বেধড়ক মারধর করেছে ৷ এনিয়ে আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি ৷” এই ঘটনায় জেলা পুলিশের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, “দু’পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ৷ পুলিশের তরফে গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে ৷ গ্রামেও পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে ৷ সোমবার রাতে মালদা মেডিক্যালে অভিযোগকারিণী বধূর শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে ৷ রিপোর্ট পাওয়া গেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে ৷” এদিকে তৃণমূলের মালদা জেলা মুখপাত্র আশিস কুণ্ডুর কথায়, “যে গ্রামে এই ঘটনা, সেই গ্রাম পঞ্চায়েত বাম, বিজেপি আর কংগ্রেস একজোট হয়ে চালাচ্ছে ৷ আমাদের ধারণা, রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই বিরোধীরা আমাদের পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ তুলছে ৷ তবে আইন আইনের পথে চলবে ৷ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ৷ আমরা চাই, তদন্তে যা উঠে আসবে সেই অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ করা হোক ৷”
