মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টায় প্রয়াত হলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার প্রয়াত হয়েছেন প্রবীণ অভিনেত্রী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরে পেটের ক্যানসার ও বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। প্রায় মাস ছয়েক টানা হাসপাতালে ভর্তি তিনি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মাত্র বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে আইসিউতে রাখা হয়। কিন্তু তাতে শেষরক্ষা হল না। তাঁর মৃত্যুসংবাদে কার্যত শোকের ছায়া বিনোদুনিয়ায়। প্রবীণ অভিনেত্রীর প্রয়াণে এদিন শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার, মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে প্রবীণ অভিনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে লেখেন, ‘প্রবীণ টেলিভিশন অভিনেত্রী বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর মৃত্যুতে আমাদের শিল্প ও বিনোদনের জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা জানাই।’ মেয়ে আসার জন্য তাঁর দেহ বাড়িতেই রাখা হয়েছে। মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে আর্টিস্ট ফোরামকে। গত বছরের শুরুর দিকে ‘গীতা এলএল বি’ সিরিয়ালের শুটিং চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। সেই ‘গীতা এলএল বি’-তেই শেষবার পর্দায় দেখা গিয়েছিল বাসন্তীদেবীকে। টেলিভিশন দর্শকদের কাছে তিনি ‘গীতা এলএলবি’ ধারাবাহিকের ঠাকুমা হিসেবে পরিচিত। অসুস্থ শরীর নিয়েও নিয়মিত শুটিংয়ে যেতেন দমদম থেকে সোনারপুর। মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকার ওষুধ ও ৪৫ হাজার টাকার ইনজেকশন চলত তাঁর চিকিৎসায়। শুটিং সেটে সহকর্মীরা সবসময় তাঁকে সহযোগিতা করতেন। গত ছয় মাস ধরে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। অবশেষে অভিনয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি শারীরিক কারণে। যদিও তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সহ-অভিনেতাদের। থিয়েটার থেকে সিনেপর্দায় স্বর্ণযুগের অভিনেতাদের সঙ্গে দাপিয়ে কাজ করেছেন বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়। ‘ কাজ করেছেন মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে। প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার ছবিতেও কাজ করেছেন। ‘মঞ্জরী অপেরা’, ‘ঠগিনী’, ‘আলো’র মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয় জীবনে ‘ঠগিনী’, ‘আমি সে ও সখা’ সহ একাধিক ছবি ও ধারাবাহিকে তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে। তরুণ মজুমদারের ‘আলো’ ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন। অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিক সিরিয়ালে মা-ছেলের চরিত্রে তাঁকে দেখা গিয়েছে। অসুস্থতার সময়ে ভাস্বর প্রকাশ্যে তাঁর আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন। স্নেহাশিস চক্রবর্তীও একসময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে দুঃখ ও সংগ্রাম কম ছিল না। পেটে ক্যানসার! এক কিডনি বিকল হওয়া, পেসমেকার বসানো, কিডনির সমস্যা, এমনকি একসময় কোমায় চলে যাওয়া সত্ত্বেও অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। চলতি বছর বাড়িতে পড়ে গিয়ে পাঁজরের হাড় ভেঙে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন।


