দেশের নয়া উপ-রাষ্ট্রপতি হলেন এনডিএ প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণন ৷ মঙ্গলবার উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ৪৫২টি ভোট পেয়েছেন ৷ বিরোধী শিবিরের প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বি সুদর্শন রেড্ডি ৩০০ টি ভোট পেয়েছেন ৷ এদিন সন্ধ্যায় ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ৷ মানে ১৫২টি ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হলেন এনডিএ প্রার্থী ৷ আরএসএস ঘনিষ্ঠ সিপি রাধাকৃষ্ণন দেশে ওবিসি অন্তর্ভুক্ত দ্বিতীয় উপ-রাষ্ট্রপতি ৷ পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের প্রথম ওবিসি উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তামিলনাড়ু থেকে তৃতীয় উপ-রাষ্ট্রপতি ৷ তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ৷ এমনকী প্রাক্তন উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ও নয়া উপ-রাষ্ট্রপতি সিভি রাধাকৃষ্ণনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ৷ এই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ছিলেন রাজ্যসভার মহাসচিব পিসি মোদি ৷ তিনি ঘোষণা করেন, “এনডিএ মনোনীত প্রার্থী এবং মহারাষ্ট্রের গভর্নর সিপি রাধাকৃষ্ণন প্রথম পছন্দের ভোটে ৪৫২টি ভোট পেয়েছেন ৷ তিনি ভারতের ১৭তম উপ-রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন ৷ বিরোধীদের উপ-রাষ্ট্রপতি প্রার্থী প্রাক্তন বিচারপতি সুদর্শন রেড্ডি প্রথম পছন্দের ভোটে ৩০০টি ভোট পেয়েছেন ৷ তাই আমি রিটার্নিং অফিসার পিসি মোদি ঘোষণা করছি, সিপি রাধাকৃষ্ণন ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ৷” রিটার্নিং অফিসার আরও জানান, গত ৭ অগস্ট ১৭তম উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নোটিশ জারি করা হয়েছিল ৷ সব মিলিয়ে ৬৮টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয় ৷ সেগুলি যাচাই করে দেখা যায় সিপি রাধাকৃষ্ণন, বি সুদর্শন রেড্ডির আবেদন বৈধ ৷ রাষ্ট্রপতি মনোনীত সাংসদ-সহ সংসদের সব সদস্য এই ভোটে অংশ নেওয়ার যোগ্য ৷ মোট ভোটারের সংখ্যা ৭৮৮ জন ৷ রাজ্যসভার ২৪৫জন এবং ৫৪৩জন লোকসভার সাংসদ ৷ এদিন বিকেল 5টায় ভোট শেষ হয় ৷ ৭৬৭ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন ৷ এই নির্বাচন ব্যালট বক্সে হয়েছে ৷ ভোট গণনা শুরু হয় সন্ধ্যা 6টায় ৷ ভোটগণনায় জানা যায় ৭৬৭ টি ভোট পড়েছে ৷ উপ-রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে ৩৭৭টি ভোট পেতে হবে ৷ প্রথম পছন্দের ভোটে বি সুদর্শন রেড্ডি ৩০০টি এবং সিপি রাধাকৃষ্ণন ৪৫২টি ভোট পেয়েছেন ৷ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হয় ৷ ভোটদান প্রক্রিয়া শেষ হয় বিকেল ৫টায় ৷ দেখা যায়, প্রায় ৯৮.২০ শতাংশ ভোট পড়েছে ৷ লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে ৭৮৮ জনের মধ্যে ৭৬৭ জন সাংসদ ভোট দিয়েছেন ৷ এই ঘোষণার পর বিরোধী শিবিরের মনোনীত প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টে প্রাক্তন বিচারপতি বি সুদর্শন রেড্ডি বলেন, “আমি জয়ী হইনি ৷ আমাদের মহান প্রজাতন্ত্রের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাস রেখে এই ফলাফল আমি বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছি ৷ আদর্শগত লড়াই চলবে ৷” ১৩ জন সাংসদ ভোট দানে বিরত থেকেছেন ৷ বিজু জনতা দলের (বিজেডি) সাত জন, ও ভারত রাষ্ট্র সমিতির (বিআরএস) চার জন, শিরোমনি অকালি দলের একজন এবং একজন নির্দল সাংসদ ভোট দেননি ৷


