দেশ

গান্ধী জয়ন্তীতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ্য

 আজ মহাত্মা গান্ধির 156তম জন্মবার্ষিকী । জাতির জনকের জন্মদিনকে স্মরণে আজ সারা দেশ জুড়েই উদযাপিত হচ্ছে গান্ধি জয়ন্তী। শুধুমাত্র জাতীয় ছুটিই নয়, এই দিনটিকে রাষ্ট্রসংঘ আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে । ফলে আজকের দিনটি বিশ্বব্যাপী শান্তি ও অহিংসার প্রতীক হিসেবেই পালিত হচ্ছে ।গান্ধিজির জীবনের মূল দর্শন ছিল সত্য ও অহিংসার পথে চলা । তিনি সামাজিক সমতা, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ, নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন । তাঁর দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন বৈষম্য, হিংসা ও আন্তর্জাতিক সংঘাত বিশ্বকে অশান্ত করছে । তাই তাঁর জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে রাষ্ট্রপতি মুর্মু সকল নাগরিককে একটি পরিষ্কার, আরও সক্ষম, স্বনির্ভর এবং সমৃদ্ধ ভারত গড়ে তোলার মাধ্যমে গান্ধিজির স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য সংকল্পবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন । এক বার্তায় তিনি সকলকে জাতির জনকের আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতি আত্মনিবেদন করার আহ্বান জানিয়েছেন ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “গান্ধিজি শান্তি, সহনশীলতা এবং সত্যের বার্তা দিয়েছেন, যা সমগ্র মানবতার জন্য অনুপ্রেরণা । তিনি অস্পৃশ্যতা, নিরক্ষরতা, আসক্তি এবং অন্যান্য সামাজিক কুফল নির্মূল করার জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন । অটল দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি সমাজের দুর্বল অংশগুলিকে শক্তি ও সহায়তা প্রদান করেছিলেন ৷” গান্ধি জয়ন্তীতে রাষ্ট্রপতি মুর্মু বলেন, “আসুন আমরা আবারও সত্য ও অহিংসার পথ অনুসরণ করার, জাতির কল্যাণ ও অগ্রগতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার এবং একটি পরিষ্কার, আরও সক্ষম, সম্পূর্ণ ক্ষমতায়িত এবং সমৃদ্ধ ভারত গড়ে তোলার মাধ্যমে গান্ধিজির স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংকল্প করি ।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার মহাত্মা গান্ধির জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে ভারত ‘আত্মনির্ভর’ এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলবে । প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধির সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন । পাশাপাশি তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে তিনি লেখেন, “গান্ধি জয়ন্তী হল প্রিয় বাপুর অসাধারণ জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, যার আদর্শ মানব ইতিহাসের গতিপথকে রূপান্তরিত করেছিল । তিনি দেখিয়েছিলেন যে সাহস এবং সরলতা কীভাবে মহান পরিবর্তনের হাতিয়ার হতে পারে । তিনি মানুষের ক্ষমতায়নের অপরিহার্য উপায় হিসেবে সেবা এবং করুণার শক্তিতে বিশ্বাস করতেন । একটি বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা তাঁর পথ অনুসরণ করে যাব ৷” সোশাল মিডিয়ায় এক্সে গান্ধিজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “মহাত্মা গান্ধি আমাদের দেশের মহান নেতা, ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে । তাঁর অহিংসার বাণী, শান্তির বাণী, একতার বাণী, সম্প্রীতির বাণী চিরস্মরণীয় । তাঁর যে প্রার্থনা ছিল, ‘ঈশ্বর আল্লাহ তেরো নাম, সবকো সন্মতি দে ভগবান’, সেই কথা আজকের দিনে বিশেষভাবে স্মরণ করি ও সকলকে স্মরণ করতে অনুরোধ করি ।” তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও গান্ধিজিকে স্মরণ করেছেন । সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “অহিংসা, সত্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির তাঁর স্থায়ী নীতিগুলি বিশ্বজুড়ে ব্যক্তি এবং জাতির জন্য অনুপ্রেরণার এক গভীর উৎস হিসেবে রয়ে গিয়েছে ।”