বিধানসভার আসন্ন বাজেট অধিবেশনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনতে চলেছে রাজ্য সরকার ৷ সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় এজেন্সি সিবিআই (CBI) এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র (ED) ‘অতিসক্রিয়তা’র নিন্দায় বিধানসভায় একটি প্রস্তাব আনতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ৷ শুধু কেন্দ্রীয় এজেন্সিই নয়, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরেকটি পৃথক প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা রয়েছে শাসক দলের ৷ সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরুতে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন যে রাজনৈতিক উত্তাপে তপ্ত হতে চলেছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত ৷ শাসকদল তৃণমূলের অন্দরমহল সূত্রে খবর, আসন্ন বাজেট অধিবেশনে এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করা হতে পারে ৷ বিধানসভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, আগামী 3 ফেব্রুয়ারি থেকে বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ৷ চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৷ সূত্রের দাবি, রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা এবং পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধানসভায় এই প্রস্তাব দু’টি উত্থাপন করতে পারেন ৷ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে, এই প্রস্তাব তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল ৷ সিবিআই ও ইডি-র বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনার বিষয়টি বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ৷ সম্প্রতি কলকাতায় তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আই-প্যাক (I-PAC)-এর সল্টলেক অফিসে এবং সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাসভবনে ইডি-র তল্লাশি অভিযান চলে ৷ এই বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন ৷ এই আবহে বিধানসভায় এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে রাজ্য সরকার ৷ প্রস্তাবটিতে মূল অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসকদলকে চাপে ফেলার জন্যই কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে ৷ অন্যদিকে, রাজ্যের অভিযোগ, ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়াটি রাজ্যে তাড়াহুড়ো করে এবং অপরিকল্পিতভাবে রূপায়ণ করা হচ্ছে ৷ এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তাঁর অভিযোগ, এই ‘অপরিকল্পিত’ পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বা গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকছে ৷ এই মর্মে ট্রেজারি বেঞ্চ বা শাসকপক্ষের তরফে একটি প্রস্তাব আনা হতে পারে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করা হবে ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা থেকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ৷ তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের শাসক দলের অঙ্গুলিহেলনে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা কাজ করছে ৷ বিশেষত বাংলায় ‘SIR’ বা ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একাধিক চিঠিও লিখেছেন ৷ আসন্ন বাজেট অধিবেশনে এই দু’টি প্রস্তাব পাশ করানো হলে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহে নতুন মাত্রা যোগ করবে ৷


