এটা রাজ্য সরকারে জয় দাবি মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ
শান্তিনিকেতনের ‘খোয়াই বাঁচাও’ সংক্রান্ত মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট । অর্থাৎ, শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদ (এসএসডিএ)-এর অন্তর্গত ১১টি মৌজায় জমির চরিত্র বদলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল ৷ অতীতে খোয়াই-এর চরিত্র বদলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল হাইকোর্ট ৷ কিন্তু বৃহস্পিতবার হাইকোর্টের রায় খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রাজ্যের কারামন্ত্রী তথা শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, “মিথ্যা জিনিস বেশি দিন চলতে পারে না ৷ কলকাতার কিছু মানুষ এখানে এসে অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করেছিল ৷ ২০১২ সাল থেকে মামলা চলছিল ৷ জমির কনভারশন বন্ধ ছিল ৷ ফলে বহু মানুষ বাড়ি করতে পারছিলেন না ৷ ১১টি মৌজার মানুষ এই রায়ে উপকৃত হল ৷ আর যারা মামলা করেছিল তাঁদের ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আমাদের জয় হল । আমরা খুব খুশি ।” প্রায় এক যুগ পর মামলার রায় দিল শীর্য আদালত । শান্তিনিকেতনে বল্লভপুর অভয়ারণ্যের কাছে অর্পণ মিত্র নামে একজন কংক্রিটের নির্মাণ করছিলেন ৷ কিন্তু এই জায়গাগুলি ‘খোয়াই’ হিসাবে পরিচিত ৷ এই নির্মাণের ফলে ভূ-বৈচিত্র্য বদল হয়ে যাচ্ছে বলে ‘খোয়াই বাঁচাতে’ ২০১২ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একটি মামলা রুজু হয়েছিল ৷ আর্সুদে প্রজেক্ট আবাসন প্রকল্প কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল ৷ মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শিল্পী যোগেন চৌধুরী ৷ ২০১৩ সালের ২২ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, মামলার নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদ (এসএসডিএ)-এর অন্তর্গত ১১টি মৌজায় জমির চরিত্র বদল করা যাবে না ৷ অর্থাৎ, কংক্রিটের নির্মাণের অনুমতি দিতে পারবে না সংশ্লিষ্ট দফতর ৷ হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে বোলপুর, সুরুল, মধুসূদনপুর, বিনুরিয়া, কবিমোহনপুর, বয়রাডিহি, তালতোর প্রভৃতি মৌজাগুলিতে কংক্রিটের নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন অনুমতি দিতে পারত না শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদ ৷ পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় নির্মাণকারী সংস্থা ৷ দীর্ঘদিন সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি চলছিল ৷ আদালত রাজ্য সরকার ও পরিবেশ দফতরকে ‘খোয়াই’ এর নির্দিষ্ট মানচিত্র চেয়েছিল ৷ কিন্তু, তা আদালতে দিতে পারেনি সরকার ৷ কারণ, খোয়াইয়ের নির্দিষ্ট কোন মানচিত্র নেই ৷ খোয়াল হল শান্তিনিকেতনে ভূ-বৈচিত্র্য। লাল-কাঁকুরে মাটি জলের ধারায় খয়ে গিয়ে নৈসর্গিক প্রাকৃতিক শোভা বিদ্যমান। ২০২৪ সালে এই মামলা পুনর্বিবেচনার আর্জিও জানানো হয়েছিল ৷এদিন, সুপ্রিম কোর্ট ‘খোয়াই বাঁচাতে’ করা মামলা খারিজ করে দিল ৷ অর্থাৎ, কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত ৷ এমনকি, শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দেন বিচারপতি । এবার থেকে এই ১১টি মৌজায় নির্মাণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ছাড়পত্র দিতে পারবে এসএসডিএ । এমনকি, ভূমির চরিত্র বদল করাও যাবে ৷ পাশাপাশি মামলাকারীরা বেশ কিছু তথ্য গোপন করেছেন, বলে পর্যবেক্ষণ করে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করেছে দেশের শীর্ষ আদালত ৷


