কলকাতা দেশ

বাড়ছে বঙ্গভবনের নিরাপত্তা, দিল্লি যাচ্ছে রাজ্য পুলিশের বিশেষ দল

বঙ্গভবনের দিল্লি পুলিশের অতি সক্রিয়তার প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এবার রাজধানীতে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ ভবন দুটির নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হল ৷ বাড়ছে রাজ্য পুলিশের সংখ্যা ৷ রাজ্য পুলিশের বাড়তি টিম দিল্লি রওনা হচ্ছে। ডিএসপি এবং একজন ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে 22 জনের একটি দলকে দিল্লি পাঠানো হচ্ছে ৷ এঁদের মধ্যে কয়েকজন সোমবার রাত 1টা 40 মিনিটের বিমানে দিল্লি যাচ্ছেন। বাকিরা যাবেন আগামিকাল সকালে ৷ সকলকে একসঙ্গে পাঠাবার পরিকল্পনা থাকলেও বিমানে টিকিট না-পাওয়ায় ধাপে ধাপে পাঠানো হচ্ছে।দলীয় কাজে আপাতত দিল্লি গিয়েছেন মমতা ৷ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এসআইআরের সময় প্রাণ হারিয়েছেন এমন কয়েকজন বিএলওর পরিবারের সদস্যরাও মমতার সঙ্গে দিল্লি গিয়েছেন ৷ এছাড়া এসআইআর আতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন এমন কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরাও সেখানে আছেন ৷ এঁদের দিল্লির চাণক্যপুরীতে নিউ বঙ্গভবন এবং হেলি রোডের ওল্ড বঙ্গভবনে রাখা হয়েছে। এদিন সকালে আচমকা ওল্ড বঙ্গভবনে দিল্লি পুলিশের তৎপরতা বেড়ে যায় ৷ তৃণমূলের দাবি বঙ্গভবনে ঘরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ ৷ খবর পেয়েই সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়ি থেকে তড়িঘড়ি বঙ্গভবনে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন,দিল্লি পুলিশকে ব্যবহার করে তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণও করেন মমতা ৷ এবার দিল্লির দুই বঙ্গভবনের নিরাপত্তাই বাড়ল ৷ সকালে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মমতা । তিনি জানান, বাংলার মানুষের ওপর এই অত্যাচার তিনি কিছুতেই মেনে নেবেন না । উত্তেজিত মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “মস্তানি দেখাবেন না । দয়া করে নিজেদের সংযত রাখুন । বাংলার মানুষের ওপর যে অত্যাচার চলছে, যে ভাবে মানুষকে মৃত বলে দেখানো হচ্ছে, এসআইআর চলাকালীন যাঁরা হেনস্তা হচ্ছেন, তাঁরা তাঁদের কথা বলতে দিল্লি এসেছেন । তাঁরা যাতে নিজেদের কথা না বলতে পারেন তারই চেষ্টা হচ্ছে ।” কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি আরও বলেন, “যদি এই দেশে কেউ এই মানুষদের জন্য লড়াই না করে, তবে আমি লড়াই করব । একা লড়ব, আমার দল লড়বে ।” মুখ্যমন্ত্রী এদিন অভিযোগ করেন, বাংলার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই দিল্লি পুলিশকে দিয়ে এই ধরনের হেনস্তা করা হচ্ছে । তিনি বলেন, “দিল্লির মানুষ জানে না বাংলায় ঠিক কী হচ্ছে । বারবার বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা করা হয় । কিন্তু তারা জানে না, কী পরিমাণ অত্যাচার আমাদের ওপর চালানো হচ্ছে ।”