দেশ

‘কোনও নির্দোষ নাগরিককে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না’, মমতার সওয়াল শুনে মন্তব্য প্রধান বিচারপতির, নির্বাচন কমিশনকে নোটিস সুপ্রিমকোর্টের

‘বাংলার ভোট রক্ষার লাড়াই’য়ে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর ইস্যুতে কমিশনের বিরুদ্ধে মমলা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মামলায় নিজের বক্তব্য নিজেই আদালতের সামনে তুলে ধরতে চান তিনি। এই লক্ষ্যে বুধবার সকালে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুনানি আছে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে। এদিন মামলাকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। তিনি কোর্টের সামনে দাবি করলেন, নির্বাচন কমিশন লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির কোনও তালিকা প্রকাশ করেনি। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টে নিজের করা মামলায় সওয়াল শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদছে। আমি আমার নিজের জন্য লড়াই করছি না, আমার দলের জন্য লড়াই করছি না। প্রধান বিচারপতিকে আর্জি জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রথম পর্বে ৫৮ লাখ, পরের পর্বে ১ কোটি ৩৬ লাখ লোককে বাদ দেওয়া হচ্ছে। অনেকে জীবিত রয়েছেন। মাইক্রো অবজার্ভার নাম মুছে দিচ্ছেন। বিজেপির লোকজনকে মাইক্রো অবজার্ভার করে পাঠাচ্ছে। তাঁরা নাম ডিলিট করছে। ইলেকশন কমিশন হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন হয়ে গিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ দিচ্ছে। পঞ্চায়েতের সংশাপত্র, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট নিচ্ছে না কমিশন। আধার কার্ডও নিচ্ছে না। আদালত অবমাননা করেছে নির্বাচন কমিশন। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকা বাতিল করা হোক। বাংলার আমজনতার অধিকার রক্ষা করুন’, ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালের জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘কোনও নির্দোষ নাগরিককে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। ম্যাডাম মমতা- আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আপনার পিটিশনের মাধ্যমে আসল সমস্যা জানতে পেরেছি। বাংলা ভাষায় লেখার জন্য কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। কাউকে তাদের দায়িত্ব পালন না করে পালাতে দেওয়া যাবে না।’

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন,‘রাজ্য সরকার যদি বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি জানা আধিকারিক দেয় আপনাদের তাহলে আপনারা এই কাজ ভালো ভাবে করতে পারবেন। এখনকার দিনে টেগোরকে কী ভাবে লেখা হবে, কেউ জানে না। তা বলে তো টেগোর মানে বদলে যাবেন না।’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরা মিসম্যাচ করছে কী ভাবে শুনুন- বিয়ের পরে মেয়েদের পদবী বদলে গেলেই মিসম্যাচ বলা হয়েছে। বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরা আপনার অর্ডার মানছে না। আধার কার্ড মানছে না, কাস্ট সার্টিফিকেট মানছে না। এরা বাংলাকে বেছে নিয়ে নিশানা করছে ইচ্ছাকৃত ভাবে। ১০০-র উপরে লোক মারা গিয়েছেন, ভাবুন একবার, স্যার। লোকে আত্মহত্যা করেছে।’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সুবিচার চাই। বাস্তবটা বুঝুন- ERO, BLRO দের আজ কোনও ক্ষমতা নেই। এরা ৮৪০০ মাইক্রো অবজারভারদের নিয়োগ করে তাদের হাতে সব ক্ষমতা তুলে দিয়েছে। তাঁরাই সব নাম বাদ দিচ্ছে। ইলেকশন কমিশন আজ হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন হয়ে গিয়েছে। এরা জনতাকে অভিযোগ জানাতে দিচ্ছে না।’

প্রধান বিচারপতি বলেন,‘আমরা এই ম্যাটারের সলিউশন করব। আপনারা আমাকে রাজ্যের অফিসারদের তালিকা দিন, যারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাজ করবে। কোনও বৈধ ভোটার বাদ যাক আমরা চাই না। সব পক্ষকে নোটিস করা হয়েছে। আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি।

কোনও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং সুপ্রিম কোর্টে নিজের বক্তব্য পেশ করার জন্য শীর্ষ আদালতে এলেন, এমন ঘটনা নজিরবিহীন, এমনই মত তথ্যভিজ্ঞ মহলের।