ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনায় সরব দেশের কৃষক সংগঠনগুলি ৷ এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে বিভিন্ন কৃষক সংগঠন ৷ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের কাছে নির্লজ্জভাবে নতজানু হয়েছেন ৷
কৃষক সংগঠন জানিয়েছে, এই ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতার জন্য কৃষকরা মোদিকে কখনও ক্ষমা করবে না । এতে 4 থেকে 11 ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনেরও ডাক দেওয়া হয়েছে ৷ 12 ফেব্রুয়ারি সাধারণ ধর্মঘটের কথা ঘোষণা করা হয়েছে । এক বিবৃতিতে কৃষক সংগঠন প্রধানমন্ত্রীকে গত বছরের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে ৷ সেই সময় মোদি বলেছিলেন যে, কৃষকদের স্বার্থরক্ষার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে বড় মূল্য চোকাতেও প্রস্তুত । সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার দাবি, এই চুক্তির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ ভর্তুকিযুক্ত কৃষি পণ্য দিয়ে ভারতীয় বাজার ছেয়ে ফেলবে ৷ যার ফলে দেশের কৃষি একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাবে । ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হওয়ার একদিন পরেই নিজেদের উদ্বেগের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছে কৃষক সংগঠন ৷ এই চুক্তির অধীনে ওয়াশিংটন ভারতীয় পণ্যের উপর পারস্পরিক শুল্ক 25 শতাংশ থেকে কমিয়ে 18 শতাংশ করবে ।
এই চুক্তির কথা ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ভারত 500 বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের আমেরিকান পণ্য কিনবে (জ্বালানিও অন্তর্ভুক্ত)। এর প্রতিক্রিয়ায়, 2020-21 সালের কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা বলেছে, “মোদি সরকারের জনগণের, বিশেষ করে কৃষকদের প্রতি এই বিশ্বাসঘাতকতার তীব্র নিন্দা করছি ৷ যারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চাপের কাছে কার্যত আত্মসমর্পণ করে মার্কিন পণ্যের উপর শূন্য শতাংশ আমদানি শুল্কের অনুমতি দিয়েছে ।”
সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা আরও জানিয়েছে যে, 2015 সালের কৃষি আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতে 14.65 কোটির তুলনায়, 2024 সালের একটি সমীক্ষা বলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 18.8 লক্ষ কৃষক রয়েছে । সুতরাং, জনসংখ্যার 65 শতাংশ কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের উপর নির্ভরশীল ৷ তাঁদের বক্তব্য, এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভর্তুকিযুক্ত মার্কিন কৃষি পণ্যে ভারতীয় বাজার ছেয়ে যাবে ৷ তার জেরে ধ্বংস হয়ে যাবে ভারতের সমগ্র কৃষক সমাজ ।
এদিকে, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানান, ভারত কয়েকমাস ধরে আলোচনার পর আমেরিকার সঙ্গে চূড়ান্ত হতে চলা দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে সংবেদনশীল বিষয় যেমন কৃষি ও দুগ্ধ খাতের স্বার্থকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেছে । মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক কমিয়ে 18 শতাংশ করার ঘোষণার পরই পীযূষ গোয়েল জানান, দুই দেশ শীঘ্রই একটি যৌথ বিবৃতি জারি করবে ৷ যেখানে চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ থাকবে বলেও তিনি জানান ।


