কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির সমাবেশে মঞ্চে উঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে ফের সক্রিয় ভূমিকায়। ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদির সভায় ঝাঁঝাল বক্তৃতা। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাঙালির স্বার্থরক্ষায় নয়, বিশেষ কিছু জনের জন্যই মমতা SIR-এর বিরোধিতায় ধর্নায় বসেন বলে দাবি করেন তিনি। দাবি করেন, অনেক মুখ্যমন্ত্রী দেখেছেন তিনি, কিন্তু মমতার মতো মুখ্যমন্ত্রী দেখেননি। মমতাকে আক্রমণ করে মিঠুন আরও বলেন, “যত ধরনের মিথ্য়ে উনি বলেন…আমি বলতাম, ১০ জন রাজনীতিকের মধ্যে উনি একজন। আমার ওই কথা শুনে সবাই রেগে যেতেন। বলতেন, একজন ব্যর্থ, বাজে রাজনীতিককে কেন ১০ জনের একজন বলছি। আমি বলতাম, কারণ আছে। উনি জানেন, সমাজের মেরুদণ্ড ভাঙতে কী লাগে, প্রথম হল শিক্ষা, দ্বিতীয় কর্ম। শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান, দু’টোই শেষ করে দিয়েছেন। একটা সমাজকে ভাঙতে এটাই দরকার। অনেক মুখ্যমন্ত্রী দেখেছি, এমন দেখিনি, যিনি কথায় কথায় মিথ্যে বলেন। এত মিথ্যে বলেছেন…আপনাদের বলে রাখছি, হাত ভেঙেছে, পা ভেঙেছে…এবার আরও অন্য কিছু ভাঙতে পারে। তৈরি থাকবেন তার জন্য। হয়ত ICU-তে চলে গেলেন। সেখান থেকে বক্তৃতা করছেন, ‘তৃণমূলকে ভোট দিন। আমার কী হবে!’ ICU থেকে বক্তৃতা করা যায়। উনি এমন ব্যবস্থা করবেন, যাতে করা যায়।”
ধর্মতলায় সম্প্রতি যে SIR বিরোধী ধর্নায় বসেন মমতা, তা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন মিঠুন। তাঁর দাবি, সব বাঙালির জন্য নয়, যাদের ৩৮৯, ৩১০টা করে সন্তান, তাদের জন্যই ধর্নায় বসেছিলেন মমতা। ৩৮৯টা কেন ৪০০ হয়নি, সেই নিয়েই ধর্নায় বসেছিলেন মমতা। ৩৮৯, ৩১০টি করে সন্তান যাঁদের, ওই সব বাবা কী খান, তা তিনি জানতে চান বলেও বিদ্রুপ ছুড়ে দেন মিঠুন। তাঁর দাবি, পুলিশ যদি নিরপেক্ষ হতো, তাহলে বিজেপি ৩০ সেকেন্ডেই ‘খেলা শেষ করে’ দেখিয়ে দিত। ব্রিগেডে মোদির সভা ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনা শহরে। সেই নিয়েও এদিন তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন মিঠুন। বলেন, “এই রাজ্যের প্রধান বলেছেন, আমরা ৫০০ টাকা দিয়ে লোক এনেছি। আমরা ৫০০ টাকা দিয়ে লোক আনি। আর ১৫০০ টাকা দিয়েও লোক জমে না আপনার। তাই এই ভাতা, ওই ভাতা, ওই শ্রী দিয়ে লোককে টুপি পরিয়ে এখানে আনেন।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যবাসীর দুঃখ ঘুচে যাবে বলে ‘গ্যারান্টি’ও দেন মিঠুন। পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে মিঠুন বলেন, তিনি নাকি দাবি করেছেন যে তিনি আছেন বলেই বাঙালি হিন্দুরা বেঁচে আছে। সেই বক্তব্যের জবাবে মিঠুন বলেন, যদি পুলিশ নিরপেক্ষ থাকে, তাহলে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই খেলা শেষ হয়ে যাবে। এছাড়াও কৃষক, আদিবাসী সমাজ এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। মিঠুন বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কৃষকদের স্বার্থে কাজ করা হবে, আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হবে। মিঠুনের কথায়, “আদিবাসী সমাজের মানুষের উন্নতি করবে বিজেপি । শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করবে বিজেপি ক্ষমতায় এসে । এরকম মুখ্যমন্ত্রী কখনও দেখিনি । আবার বলছি হাত ভেঙেছে পা ভেঙেছে এবার অন্য কিছু ভাঙবে । আইসিইউ থেকে বক্তৃতা দেওয়া যায়।” বক্তৃতার মাঝেই নিজের জনপ্রিয় সিনেমার সংলাপও শোনান অভিনেতা। তিনি বলেন, “আমি জলঢোরা নই, বেলেবোরা নই… বাকিটা আপনারাই বসিয়ে নিন।” আবার নিজের বিখ্যাত সংলাপের ধাঁচে বলেন, “আমার নাম তুফান, বছরে দু’একবার আসি। যখন যাই, যারা নিজেদের ভগবান ভাবে তারা নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়ায়।” মিঠুনের এই সংলাপ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যে ব্রিগেডের সভামঞ্চে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্সাহ বাড়তে দেখা যায়।

