রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফর ঘিরে ‘প্রোটোকল ভাঙা’ এবং ‘অসম্মান’-এর অভিযোগকে সামনে রেখে ব্রিগেড ময়দানের সভা থেকে ফের তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । শনিবারের জনসভায় তিনি দাবি করেন, এই ঘটনার মাধ্যমে শুধু রাষ্ট্রপতিকেই নন, দেশের সংবিধান, আদিবাসী সমাজ এবং কোটি কোটি মহিলাকেও অপমান করা হয়েছে । মোদির কথায়, “ওঁরা শুধু রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেননি । ওঁরা আদিবাসী সমাজকে অপমান করেছেন, কোটি কোটি মহিলাকে অপমান করেছেন । দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের গরিমাকে খাটো করেছেন । সংবিধানকে অপমান করেছেন, বাবাসাহেব আম্বেডকরকে অপমান করেছেন । এই নির্মম সরকারকে এর সাজা পেতেই হবে ।” তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিনই সাংবিধানিক ব্যবস্থার উপর হামলার নতুন নতুন পথ খোঁজা হয় । প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে যে ‘অরাজকতা’ চলছে, তা দিল্লির সংসদেও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে । তাঁর দাবি, সংসদের ভিতরে কাগজ ছোড়া, কাজ ভণ্ডুল করার মতো ঘটনাও ঘটেছে । তবে তাঁর মতে, সেই অরাজকতার দিন শেষের পথে। মোদির কথায়, “বাংলার চেতনা আবার জেগে উঠেছে । আজকের ব্রিগেডের জনসমুদ্রই তার প্রমাণ । এবারের নির্বাচন শুধু পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, বাংলাকে বাঁচানোর নির্বাচন ৷” প্রসঙ্গত, গত 7 মার্চ উত্তরবঙ্গে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের নবম সম্মেলনে যোগ দিতে রাজ্যে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু । সেই অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন এবং তাঁর সভায় মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনও প্রতিনিধির উপস্থিতি না থাকা নিয়ে সেখানেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি । তিনি বলেন, “প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না । আমি তো সহজে এলাম । ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা নেই । এখানে তো পাঁচ লক্ষ মানুষ হয়ে যাওয়ার কথা ।” মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে । আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না । মমতাদি আমার ছোটবোন । জানি না আমার উপর কী রাগ । যাই হোক, কোনও অভিযোগ নেই, কোনও ক্ষোভ নেই । উনি ভালো থাকুন, আপনারাও ভাল থাকুন ।” পাশাপাশি রাজ্যের আদিবাসী ও অনগ্রসর মানুষ সরকারি সুযোগসুবিধা ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি । ঘটনার পরই এ ব্যাপারে সোশ্যাল মাধ্যমে সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ৷ এবার একই ইস্যুতে ব্রিগেডের সভা থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মোদি । পর্য়বেক্ষকদের অনেকের মতে, রাজ্যে আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই ব্রিগেডের সভা থেকে ‘সুকৌশলে’ রাষ্ট্রপতির অপমানের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ৷তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কথা বললেই হামলা হয় এবং যে সংস্থাগুলি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় । একই সঙ্গে দেশের সেনাবাহিনী নিয়েও বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে বলে দাবি করেন তিনি । বালাকোট অভিযানের সময় বায়ুসেনার কাছে প্রমাণ চাওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী ।দুর্নীতির ইস্যুতেও তৃণমূলকে নিশানা করেন মোদি । তাঁর অভিযোগ, চা-বাগানের শ্রমিকদেরও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পেতে বাধা দেওয়া হয়। “দেশের সর্বত্র মানুষ পাকা বাড়ি পাচ্ছেন । কিন্তু বাংলায় প্রকল্পের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে । তারপরও যাঁদের বাড়ি পাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন,” বলেন তিনি । জল জীবন মিশন, আয়ুষ্মান ভারত-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকেও রাজ্যের মানুষ তৃণমূল সরকারের জন্য বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী । ব্রিগেডের সভায় রাষ্ট্রপতির ‘অসম্মান’ এর প্রসঙ্গ তুলে মোদির এই আক্রমণ যে ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।