জেলা

বাংলায় বিজেপি না-জিতলে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, দাবি অমিত শাহের

বাংলায় বিজেপি সরকার না-হলে দেশের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়বে ৷ ব্যারাকপুরে কর্মিসভা থেকে এমনই দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ৷ বাংলায় অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শাহ বলেন, “মা-মাটি ও মানুষের কথা বলে সরকার গড়েছিলেন মমতাদি ৷ আর এখন বাংলায় শুধুই অনুপ্রবেশকারীদের দাপট ৷ মা-মাটি ও মানুষের প্রতি প্রকৃত সম্মান দেখাতে হলে এখানে বিজেপি সরকার গড়তেই হবে ৷ বাংলায় এবার বিজেপি সরকার হওয়া শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য জরুরি তা নয়, বাংলায় যেভাবে অনুপ্রবেশকারী প্রবেশ করছে তাতে সারা দেশের নিরাপত্তাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে ৷”আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি সরকার হওয়া নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন তিনি বলেন, “2014 সালে আমরা মাত্র 2টি আসন পেয়েছিলাম। 2019 সালে আমাদের আসন সংখ্যা বেড়ে হয় 18। এরপরে 2024 সালে আমাদের প্রাপ্ত ভোটের হারও বেড়েছে। 2021 সালে 77টি বিধানসভা কেন্দ্রে জিতেছিলাম। এবার 50 শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে সরকার গড়ব ৷

অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে সুর আরও চড়িয়ে শাহ আরও বলেন, “ফেন্সিংয়ের জন্য মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় সীমান্তে জমি দিচ্ছেন না ৷ এর জন্য ফেন্সিং সম্পূর্ণ হচ্ছে না ৷ তার সুযোগ নিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা বাংলায় প্রবেশ করছে ৷ জমি সংক্রান্ত সমস্যার কথা আমি সংসদে দাঁডিয়ে বলেছি ৷ এবার কলকাতা হাইকোর্টও বলেছে 31 মার্চের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি দিতে হবে ৷ এখান থেকেই বোঝা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করছেন না ৷ অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে বাধাও দিচ্ছে না ৷ তবে এটা ভাববেন না যে, হাইকোর্টের রায়ের পরেও মমতা জমি দেবেন, কারণ অনুপ্রবেশকারীরা তাঁর ভোটব্যাঙ্ক ৷ 31 মার্চ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি দিলে ভালো, না-দিলে মে মাসে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত প্রয়োজনীয় কাজ করবেন ৷”

সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মতুয়া সমাজকে ভয় দেখানোর অভিযোগও এনেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৷ তিনি বলেন, “মমতাদি মতুয়াদের ভয় দেখানোর রাজনীতি করছেন ৷ শান্তনুজি (কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর) ফোন করেন ৷ মতুয়া ও নমঃশূদ্র সমাজকে বলছি, আপনাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই ৷ এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে ৷ আমরা কমিশনকে সমর্থন করছি ৷ ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বের করবই, বাকি যারা থাকবে, তাদের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী এসে বের করে দেবেন ৷” ভাষণের শুরুতে আনন্দুপুরের মোমো কারখানায় আগুন লেগে নিহতদের শ্রদ্ধা জানান শাহ ৷ ওই কারখানার মালিককে কেন গ্রেফতার করা হয়নি, সভা থেকে সেই প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৷ তিনি জানান, এই দুর্ঘটনার ন্যায়বিচার হওয়া উচিত ৷ সবার প্রথমে এর জন্য দায়ী লোককে গ্রেফতার করা উচিত ৷ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “দোষীদের আপনি যত ইচ্ছে আড়াল করুন ৷ এপ্রিল মাসে আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসে দোষীদের গ্রেফতার করবে ৷ ” তাঁর মতে আনন্দপুরের মোমো কারখানায় যে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে সেটা দুর্ঘটনা নয়। এর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্নীতি দায়ী। তিনি জানান, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে 25 জনের মৃত্যু হয়েছে এবং 27 জন এখনও নিখোঁজ। এই মোমো কারখানার মালিক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশে ঘুরতে গিয়েছিলেন।

ব্যারাকপুরের সভা থেকে বাংলার দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সরব হন শাহ ৷ তিনি জানান, শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে রেশন-মনরেগা-পিএম আাবস যোজনা- প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে ৷ বাংলায় হাজার কোটি টাকা নয়ছয় হয়েছে কিন্তু মমতা তার কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না ৷ কারণ, তিনি ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চান ৷ তাঁর চোখে ছানি পড়েছে ৷ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ভোটাররা অপারেশন করে দেবেন ৷ তারপর আর তাঁর দেখতে কোনও সমস্যা হবে না ৷

এরপরই পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডল, মদন মিত্র, চন্দ্রনাথ সিনহা, কুন্তল ঘোষ, আরাবুল ইসলাম, শোভন চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিকের নাম উল্লেখ করে বলেন- এঁরা সবাই জেলে গিয়েছিলেন ৷ পাশাপাশি অজিত মাইতি থেকে শুরু করে ফিরহাদ হাকিমদের নামও উল্লেখ করেন শাহ ৷ এরপরই সরাসরি মমতাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, “আপনার ক্ষমতা থাকলে দুর্নীতিতে জড়িতদের টিকিট দেবেন না ৷” তিনি আরও জানান, বিজেপি সরকার গড়লে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নজরদারিতে সব দুর্নীতির তদন্ত হবে ৷ প্রত্যেক দোষীকে জেলে যেতে হবে ৷