সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলার একগুচ্ছ প্রকল্পের উদবোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্প। রাজ্যের একাধিক জেলায় আজ বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের টাকা দেওয়া হল ৷ দ্বিতীয় ধাপে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের 35 হাজার 48 জনকে বাড়ি দেওয়া শুরু হল জলপাইগুড়ি জেলায়৷ এদিকে, হাওড়ার জেলায় 59,607 জন সুবিধাভোগী প্রথম কিস্তি হিসেবে 60,000 টাকা পাচ্ছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলায় মোট 54 হাজার উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ইতিমধ্যেই 79103 টি পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে এদিন দ্বিতীয় পর্যায়ে জেলায় মোট 54 হাজার উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় 64 হাজার মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে বাড়ির জন্য আবেদন করেছিলেন।তাদের বেশিরভাগই ভাতার ও পূর্বস্থলী ব্লকের বাসিন্দা। তাদের আবেদন খতিয়ে দেখে চলতি মাসেই জেলা প্রশাসন রাজ্যের কাছে সেই তালিকা পাঠিয়ে দেবে। এদিন কৃষি জমির পাট্টা ও বাড়ির পাট্টাও দেওয়া হয়েছে। শস্য বীমার আওতায় জেলার চারটি ব্লকের 32 হাজার 725 জন চাষিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ 12 কোটি 44 লক্ষ 99 হাজার 965 টাকা। এছাড়া কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করার জন্য জেলার চারটে ব্লকে কৃষকদের ট্রাক্টর ও ভারী যন্ত্র ক্রয় করার জন্য অনুদান তুলে দেওয়া হয়। এদিন অনুষ্ঠানে ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ছাড়াও পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসক আয়েশা রানী এ, পুলিশ সুপার সায়ক দাস সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা। পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসক আয়েশা রানী এ বলেন, “বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেজ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পূর্ব বর্ধমান জেলায় 79 হাজার মানুষের হাতে এই প্রকল্প তুলে দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে 54 হাজার বাড়ি দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা ঢুকে গিয়েছে। এছাড়া, যারা মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন, তাদের ভেরিফিকেশন শুরু হয়েছে ৷ চলতি মাসের মধ্যেই তাদের কাজও সম্পন্ন হবে। নতুন করে আজ ফের 312 জনকে ভূমি পাট্টা দেওয়ার কাজ করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির জেরে চাষের যে ক্ষতি হয়েছিল সেখানে নতুন করে অনেক কৃষককে বীজ তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার বাইরে যেখানে অতিরিক্ত ক্ষতি হয়েছিল, সেই চারটে ব্লক রায়না-1, রায়না-2 ব্লক, কেতুগ্রাম -1 ও কেতুগ্রাম -2 ব্লকে শস্যবীমার আওতায় প্রায় 33 হাজার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের জন্য 12 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পৌঁছে গিয়েছে।” বুধবার হাওড়ার জেলা শাসক ডঃ পি দীপাপ্ৰিয়া সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) ফেজ-2 প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, জেলার সব ব্লকে আজ 59,607 জন সুবিধাভোগী প্রথম কিস্তি হিসেবে 60,000 টাকা পাচ্ছেন। এই অর্থ সরাসরি ডেবিট-ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে 357.642 কোটি টাকা হিসাবে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের ব্লকভিত্তিক সংখ্যা অনুযায়ী, বালি জাগাছাতে 5,008, উদয়নারায়ণপুর-এ 4,239, ডোমজুড়ে 942, পাঁচলাতে 1136, সাঁকরাইলে 3733, শ্যামপুর-1-এ 9243, শ্যামপুর-2-এ 8885, উলুবেড়িয়া-2-এ 5155 এবং অন্যান্য ব্লকে 7212 জন সুবিধাভোগী রয়েছে। জেলা শাসক জানান, এই কিস্তি বিতরণ একসঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক সদর ও জেলা সদর-এ আয়োজন করা হয়েছে, যাতে সুবিধাভোগীরা সরাসরি উপকৃত হন।


