ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি৷ বিধানসভা ভোট কবে ঘোষণা হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও খবর নেই৷ এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের 83 হাজার পোলিং বুথের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য৷ তিনি চান এবারের বিধানসভা নির্বাচনে যেন রাজ্যের প্রতিটি বুথের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা হয়৷ তাই এই বিষয়টি নিয়ে তিনি দ্বারস্থ হয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের৷ দায়ের করেছেন জনস্বার্থ মামলা৷ উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ভোট মানেই হিংসা৷ সে বিধানসভা বা লোকসভা হোক, কিংবা পুর-পঞ্চায়েত ভোট, হিংসার ঘটনার অনেক উদাহরণ রয়েছে৷ মঙ্গলবার মামলা দায়েরের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই হিংসার প্রসঙ্গই তুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি৷ তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমঙ্গে কোনও ভোটই তো নিরামিষ হয় না৷ আর পশ্চিমবঙ্গের বুথে কী হয়, সেটা তো সাধারণ মানুষের জানা৷’’ ভোটের দিন বুথে-বুথে কী ধরনের ঘটনা ঘটে, তা নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা থাকার পরও কীভাবে ইন্টিমিডেশন চলে, কীভাবে ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়, ময়দা লাগিয়ে দেওয়া হয় ক্যামেরার উপরে, ক্যামেরায় কাগজ লাগিয়ে দেওয়া হয়, ক্যামেরাকে ভেঙে দেওয়া হয়, এগুলো তো আমরা দেখেছি৷ সিআরপিএফ থাকে তো বুথের বাইরে পর্যন্ত৷ কিন্তু বুথের মধ্যে যখন মানুষ ভোট দিতে ঢোকে, তাঁরা কী অবস্থায় পড়েন! বিরোধী দলের এজেন্টদের অবস্থা কী হয়? এই নিয়ে তো প্রতিনিয়ত প্রশ্ন উঠেছে৷’’তাঁর অভিযোগ, 2021 সালের শেষে কলকাতা পুরনিগমের নির্বাচনের সময় বিজেপি প্রার্থী মীনাদেবী পুরোহিতকে মারধর করা হয়েছে৷ বুথে ভাঙচুর চালানো হয়েছে৷ তার পরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি৷ মধ্য কলকাতায় এক ব্যক্তির পা বোমা বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ সেই ঘটনার প্রসঙ্গও টানেন শমীক ভট্টাচার্য৷ তাঁর প্রশ্ন, এর জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নিয়েছে? শমীকের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয় না৷ তিনি বিহারের সাম্প্রতিক ভোটের উদাহরণও দিয়েছেন৷ জানিয়েছেন, সেখানে হিংসা ছাড়াই ভোট হয়েছে৷ শমীকের প্রশ্ন, বিহার-উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে ভোট-সংস্কৃতি বদলে গেলে পশ্চিমবঙ্গে বদল হবে না কেন? তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এখানে এসআইআর চলছে৷ বিএলও-দের বাধ্য করা হচ্ছে ভুয়ো তথ্য আপলোড করার জন্য৷ ফিরহাদ হাকিম তো দরবার খুলে দিয়েছেন 50-60 বছরের ব্যক্তিদের জন্মের শংসাপত্র দেওয়ার জন্য৷ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে অন্যান্য প্রদেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন৷ 11টা রাজ্যে এসআইআর চলছে৷ আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কাগজ ছিনতাইয়ের সময়ও এসআইআর-এর কথা বলছেন৷ স্বাভাবিকভাবেই এখানে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতে নির্বাচন কমিশনকে অন্য ব্যবস্থা করতে হবে৷’’তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ম্যাকিনটোস বার্ন চলে যাওয়ার পর বুথের সুরক্ষা নিয়ে সমীক্ষা করার জন্য অন্য কোনও সংস্থাকে কেন আনা হল না? রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় যদি কোনও সংস্থা না-পাওয়া যায়, তাহলে অন্যত্র থেকে নিয়ে আসতে হবে৷ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে হলে শুধু এসআইআর করলে চলবে না৷ বুথকে সুরক্ষিত করতে হবে৷ নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে৷ সম্পূর্ণ তাঁদের নজরদারিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে মানুষ ভয়মুক্ত হয়ে মানুষ যাতে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের৷ সেটার অঙ্গ হিসেবে আমরা এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছি৷’’ তিনি এসআইআর প্রসঙ্গও তোলেন৷ বিএলওদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন৷ তাঁর দাবি, তার পরও বিএলও-রা ভালো কাজ করছেন৷ ফলে এবারের ভোটে তৃণমূল কোনোরকম সুবিধা করতে পারবে না বলেই তিনি মনে করেন৷


