কলকাতা রাজনীতি

৫০০ বাংলাদেশির জন্য বাংলার ৭ কোটি ভোটারকে হেনস্তা করছে কেন্দ্র, অভিযোগ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর

ভ্রাম্যমান পুস্তক বিপণন কেন্দ্রের উদ্বোধন করতে মেদিনীপুরে এসে রীতিমতো SIR ও বাংলাদেশি ভোটার নিয়ে তোপ দাগলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী । তাঁর বক্তব্য, কোনও ভোটার যদি বাংলার পাশাপাশি বাংলাদেশি হন, অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিক কমিশন । কিন্তু ৫০০ বাংলাদেশি ভোটারের জন্য কেন সাত কোটি বাঙালিকে হেনস্তা করা হবে ? সোমবার সন্ধ্যায় মেদিনীপুরে হঠাৎই একটি ছোট্ট অনুষ্ঠানের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী । তিনি মেদিনীপুর শহরে মেদিনীপুর কলেজ সংলগ্ন পঞ্চুরচক এলাকায় ভ্রাম্যমান একটি পুস্তক বিপণন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন । উদ্বোধনে অন্যান্য নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত হয়েছিলেন সিপিএমের কর্মী-সমর্থকরা । অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সুজন চক্রবর্তী ৷ তিনি বলেন, “যদি বাংলাদেশের 500 ভোটার এই বাংলায় বাংলার ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তাহলে তাদের নাম বাদ দেওয়া, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই আমাদের । কিন্তু প্রায় সাড়ে 6 থেকে 7 কোটি ভোটার এই বাংলায়, তাঁদের সবাইকে হয়রানি করা যুক্তিযুক্ত নয় । 500 ভোটারের জন্য সাত কোটি মানুষকে পরীক্ষা দিতে হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না ।’’ তিনি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA)-এর কথাও তোলেন ৷ সুজন বলেন, ‘‘একদিকে 2002 সালের জন্মের সার্টিফিকেট চাইছে সরকার, অন্যদিকে 2014 সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা ভারতে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেবে বলছে । এটা কোনটা ঠিক, ওরাই বলতে পারবে । আমার মনে হয়, আসলে বাংলার মানুষকে বিপদে ফেলতে চায় এই কেন্দ্রীয় সরকার ।” সোমবার দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’র যে নির্বাচন কমিশন অভিযান ছিল, তা নিয়ে সুজন বলেন, “আমি একটা ছবি দেখলাম যেখানে কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীরা অভিযান করছে । যেখানে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধি-সহ বিভিন্ন নেতা-নেত্রীকে দেখলাম, যাঁদের অভিযানে যেতে বাধা দিয়েছে দিল্লি পুলিশ । এর থেকে বোঝা যায় নির্বাচন কমিশনের মনোভাব কী । দিল্লির নির্বাচন কমিশন থরথরি কম্প, তাই তারা বাধা দিয়েছে এই অভিযানে যেতে ।” এরপর বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান-সহ বিজেপি মণ্ডল সভাপতি বাংলাদেশি বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে সিপিএমের এই নেতা বলেন, “একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হল তৃণমূল ও বিজেপি । কারণ, রাজারহাটের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি তিনি হলেন বাংলাদেশি । আবার মালদাতে তৃণমূলের প্রধান তিনিও আবার বাংলাদেশি নাগরিক । তাই এই বিজেপি ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় যাঁরা নেতা আছেন, তাঁদের আগে ডাকা হোক । এই বিজেপি ও তৃণমূল বাংলাকে কলুষিত করছে, যার জন্য বিপদে পড়তে হচ্ছে বাংলার সাধারণ মানুষকে ।’’