বৈশাখ মাসে দিলীপের জীবনে ‘বসন্ত’। আর কয়েক ঘণ্টা বাকি। তারপরে সইসাবুদেই রিঙ্কু মজুমদারের সঙ্গে জীবন কাটানোর অঙ্গীকার করবেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সকাল থেকেই তাঁর নিউ টাউনের বাড়িতে ‘চাঁদের হাট’। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে বাড়িতে যান দলের বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, লকেট চট্টোপাধ্যায় আরও অনেকেই।বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের বিয়ে উপলক্ষে তাঁকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠালেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া একটি হলুদ রঙের খাম পৌঁছে যায় দিলীপ ঘোষের নিউ টাউনের বাড়িতে। একই সঙ্গে ফুলের তোড়াও পাঠিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। রাজনৈতিক ময়দানে দ্বিমত থাকলেও বঙ্গ রাজনীতিকরা একে অন্যের প্রতি সৌজন্য বিনিময়ে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে পিছপা হননি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে তাঁকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তেমনই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শারীরিক অসুস্থতার খবর পেয়েও ছুটে যেতেন তিনি। এ বার রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতির জীবনের বিশেষ দিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছাবার্তায় লেখেন, ‘শ্রীমতী রিঙ্কু মজুমদারের সঙ্গে আপনার বিবাহবন্ধনের কথা জেনে আনন্দিত হলাম। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের সূচনায় রিঙ্কুদেবী ও আপনাকে আমার তরফে অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।’ এদিন বিয়ের জন্য এলাহি আয়োজন করেননি দিলীপ। তবে বাড়িতে

আসা অতিথিদের জন্য ছিল মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা। একেবারে ঘরোয়া, বাঙালি খাবারের পদ ছিল দিলীপের বিয়েতে। আমন্ত্রিতদের পাতে পড়েছে ভাত, ডাল, সবজি, কাতলা মাছ। তবে মিষ্টি ছাড়া আবার বাঙালি বিয়ে হয় নাকি! তাই শেষ পাতে পড়েছে রসগোল্লা এবং আইসক্রিমও। রাজনৈতিক সতীর্থরা অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁকে। দিলীপ ঘোষ ও তাঁর হবু স্ত্রীকে পাঞ্জাবি এবং শাড়ি উপহার দিয়েছেন সুকান্ত। শমীক ভট্টাচার্যও তাঁকে দিয়েছেন পাঞ্জাবি। জানা গিয়েছে, অতিথিদেরও ‘রিটার্ন গিফ্ট’ দিয়েছেন দিলীপ। শুক্রবার ৪ বৈশাখ, গোধূলি লগ্নি বিয়ে হবে তাঁর। বর এবং কনেপক্ষ মিলিয়ে নিমন্ত্রিতের সংখ্যা ৩০ জন। রিঙ্কু একটি ২৫ বছর বয়সি ছেলেও আছে। মায়ের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের বিয়ে, অথচ সে বিয়ের আসরে নেই ছেলে। সল্টলেকে বেসরকারি IT সংস্থায় কাজ করেন ২৫ বছর বয়সি প্রীতম। গুড ফ্রাইডে এবং এক্সটেন্ডেড উইকএন্ডে কলকাতার বাইরে বেড়াতে গিয়েছেন তিনি। আগে থেকেই প্ল্যান করা ছিল তাঁর এই ট্রিপ। জানিয়েছেন, দিলীপ-রিঙ্কুই বলেছিলেন, প্ল্যান ক্যান্সেল না করতে। তাই বিয়ের দিন গরহাজির ছেলে। দিলীপ ঘোষের সঙ্গে মায়ের বিয়ে নিয়ে কী মনে করছেন তিনি? প্রীতম বলেন, ‘মায়ের জন্য খুব খুশি। দু’জনকে অনেক শুভেচ্ছা। ভবিষ্যৎ জীবন খুব ভালো কাটুক ওঁদের।’ প্রীতম বলেন, ‘সক্রিয় ভাবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা তেমন ভাবে নেই। তবে আমি সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে আমারও। ওঁর থেকে এ বার নিঃস্বার্থ ভাবে সমাজসেবা শেখার সুযোগ আসবে, এটাই বড় পাওনা।’



