হলফনামা দিতে পারল না ED
সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল I-PAC কাণ্ডে ED মামলার শুনানি। আইপ্যাকের (IPAC) কলকাতা অফিসে ED হানার ঘটনায় সব পক্ষকে হলফনামা দিতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। রাজ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা জমা দিলেও হলফনামা দিতে পারল না এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার শুনানি শুরুতেই ইডির আইনজীবী তুষার মেহতা বাড়তি সময় চান।শুনানির দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনও করা হয় ইডির তরফে। এদিন সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে রাজ্যের তরফে ইডির মামলা খারিজের আবেদন করা হয়। কেন আইপ্যাককে কোনও আগাম নোটিস দেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নও তোলা হয়েছে রাজ্যের তরফে। পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমো কোনও নিয়ম ভঙ্গ করেনি বলেও জানিয়েছে রাজ্যের আইনজীবী। ইডি আধিকারিকদের অনুমতি নিয়েই কিছু স্পর্শকাতর নথি নিয়ে এসেছেন বলে তাদের তরফে জানানো হয়েছে। সুপ্রিম নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার হলফনামা জমা দিয়েছে রাজ্য। এরপরই ইডির আইনজীবী সময় চাইতেই রাজ্যের মতামত জানতে চায় বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চ। রাজ্য সম্মতি দেওয়ার পরই মামলা পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়। আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশিতে বাধাদানের অভিযোগে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের বিরুদ্ধে FIR দায়েরের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ED। সেই মামলায় গত ১৫ জানুয়ারি, সর্বশেষ শুনানিতে নোটিস জারি করে রাজ্য সরকার–সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জবাব তলব করেছিল শীর্ষ আদালত। সেই মতো ৩৪ পাতার হলফনামা জমা করেছে রাজ্য। বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি এভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চের কাছে রাজ্যের আইনজীবী দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী কোনও নথি ছিনতাই করেননি। ইডি আধিকারিকদের অনুমতি নিয়েই কিছু স্পর্শকাতর নথি নিয়ে এসেছিলেন। এমনকী হলফনামায় দাবি করা হয়েছে, ইডির তল্লাশিতে কোনও বাধা দেননি মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া ইডি যে ভাবে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভে সংস্থার অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল, একতরফা ভাবে তেমন তল্লাশির সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারে না বলে আদালতে যুক্তি দিয়েছে রাজ্য। ফলে ইডির আর্জির আদৌ কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেও রাজ্য সওয়াল করেছে। এর পরেই এই হলফনামার জবাব দিতেই সময় চেয়েছে ইডি। উল্লেখ্য, I-PAC সংক্রান্ত এই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশের সদ্য প্রাক্তন সিপি মনোজ ভার্মা–সহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।


