ভোটার তালিকার নিবিড় ও বিশেষ সংশোধন (SIR)-এর ক্ষেত্রে প্রামাণ্য নথি হিসেবে আধার কার্ড নিতে হবে ৷ বিহারে এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় নির্বাচন কমিশনকে সোমবার এমনই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি সূর্য কান্তর ডিভিশন বেঞ্চ ৷ এই সুপ্রিম নির্দেশে কিছুটা স্বস্তি মিলতে না মিলতেই এবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশে SIR প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিহারের পরে দেশজুড়ে এসআইআর কবে শুরু হবে, সেটিও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল কমিশন। পুজো-পর্বের পরেই অক্টোবরে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার নিবিড় ও বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া। কমিশন জানিয়েছে যে, বিহারের পর, সারা দেশে SIR বাস্তবায়ন করা হবে। ইঙ্গিত মিলেছে যে, 2026 সালে অসম, কেরল, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই প্রক্রিয়া সেরে ফেলতে চায় নির্বাচন কমিশন। এই ভোটার তালিকার নিবিড় ও বিশেষ সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য হল বিদেশী অবৈধ অভিবাসীদের জন্মস্থান পরীক্ষা করে তাদের নিজেদের দেশে ফেরৎ পাঠানো। বাংলাদেশ ও মায়ানমার-সহ বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে এই পদক্ষেপটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। অবশেষে, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার অখণ্ডতা রক্ষার জন্য তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য দেশজুড়ে SIR চালু করতে চলেছে। সারা দেশে SIR বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা নিশ্চিত করতে ঘরে ঘরে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন। এর আগে পশ্চিমবঙ্গে শেষ এসআইআর হয়েছিল 2002 সালে। সেই বছরের SIR অনুযায়ী সেই ভোটার তালিকা আগেই সামনে এনেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের তরফে এলাকাভিত্তিক সেই তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এবার দু’দশকেরও বেশি সময় পরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশজুড়ে ফের ভোটার তালিকার নিবিড় ও বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে কমিশন। সম্প্রতি বিহারে ভোটার তালিকার নিবিড় ও বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের খসড়া তালিকা থেকে প্রায় 65 লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও প্রশ্ন উঠেছিল। আসলে, প্রথমে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল SIR প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি পরিচয়ের প্রামাণ্য নথি হিসাবে আধার কার্ডকে ধরা হবে না। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তর বিতর্ক শুরু হয় দেশজুড়ে। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল-সহ অন্য বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও এর বিরোধিতায় সরব হয়েছিল।


