সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে ফের মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় জড়িত ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-কে নিষিদ্ধি ঘোষণা করল আমেরিকা। লস্কর-ই-তোইবার এই ছায়া সংগঠনটিকে ‘বিদেশি জঙ্গি গোষ্ঠী’র তকমা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে নয়াদিল্লি। এর ফলে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও মজবুত হবে বলে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় যুবক ছিলেন। সূত্রের খবর, একেবারে ২৬/১১ মুম্বই হামলার ধাঁচে এই ছক কষেছিল আইএসআই ও লস্কর-ই-তোইবা। লস্করের লেজুড় টিআরএফ এই হামলা চালায়। তার দায় স্বীকার করে হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসা এই পাক জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে আন্তর্জাতিক স্তরে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে ভারত। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠীর তালিকায় টিআরএফ-এর নাম তুলতে ইতিমধ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই সাফল্য পাওয়ার আগে আমেরিকা থেকে এল সুখবর। টিআরএফকে নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার মার্কিন বিদেশ দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় ট্রাম্পের ন্যায়বিচারের আশ্বাসকে সুনিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ’ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিয়ো বলেন, ‘আজ (আমেরিকার) বিদেশ দপ্তর টিআরএফকে ‘বিদেশি জঙ্গি গোষ্ঠী’ এবং ‘বিশেষ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী’-র তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে।’
মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে শুক্রবার ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং জঙ্গি কাঠামো ধ্বংস করতে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে আসছে ভারত। জঙ্গি তালিকায় টিআরএফ-এর অন্তর্ভুক্তি একটি সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে গভীর সহযোগিতার প্রতিফলন।’


