নির্বিঘ্নেই শেষ হল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর পরীক্ষা ৷ এসএসসির চেয়াম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার জানান, “প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯১ শতাংশ । পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ভিনরাজ্যের প্রার্থীর সংখ্যা ছিল 31 হাজারের বেশি । পরীক্ষা নির্বিঘ্নভাবে হয়েছে ।” রবিবার পরীক্ষা শেষের পর হল থেকে বেরিয়ে সকলেই চাকরি পাওয়া নিয়ে আশাবাদী । প্রশ্ন এতটা সহজ এসেছে যে পরীক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়েছে। তাই এসএসসি (স্কুল সার্ভিস কমিশন) আয়োজিত মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে হাসিমুখেই বেরিয়ে এলেন সিংহভাগ পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরা, ফোনে কথা বলার সময় উত্তেজনায় ফুটতে থাকা—শরীরী ভাষাই বুঝিয়ে দিয়েছে, লিখিত পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের কোনও অভিযোগ নেই। শুধু সহজ প্রশ্নই নয়, পুলিশ-প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এবং সহজলভ্য গণপরিবহনের কারণে কোনও বড় বিপত্তি ছাড়াই মিটল ‘দ্বিতীয় এসএলএসটি (এটি), ২০২৫’। এসএসসি’র তথ্য বলছে, প্রায় ৩ লক্ষ ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী থাকলেও এদিন ৯১ শতাংশ (প্রায় ২ লক্ষ ৯০ হাজার) পরীক্ষাকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন। অর্থাৎ ২৯-৩০ হাজার প্রার্থী পরীক্ষাই দেননি। চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক তথা পরীক্ষার্থীদের একাংশের মতে, গরহাজির প্রার্থীদের সিংহভাগই ভিন রাজ্যের বাসিন্দা। কোনও কারণে হয়তো শেষ মুহূর্তে তাঁরা পরীক্ষা দিতে বাংলায় আসেননি। তবে এদিন পরীক্ষা-পর্বের সবই ইতিবাচক ছিল, তাও বলা চলে না! যেমন, ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের বেশিরভাগই এদিন প্রতিবাদস্বরূপ কালো পোশাক পরে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। এই তালিকায় মেহবুব মণ্ডল বা চিন্ময় মণ্ডলের মতো আন্দোলনের চেনা মুখের পাশাপাশি ছিলেন অনেক অচেনা বা স্বল্প পরিচিতও। যেমন, শিবপুরের একটি উর্দু স্কুলের গণিতের শিক্ষক শ্যামবাজার মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে এসেছিলেন কালো টি-শার্ট পরে। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা ভালোই হয়েছে। এবার যদি আমাদের বিরুদ্ধে চাকরি চুরির অপবাদ ঘোচে! আমাদের নিয়ে যেভাবে ছিনিমিনি খেলা চলছে, তার প্রতিবাদেই কালো পোশাকে এসেছি।’ সবাই যে চোয়াল শক্ত করে প্রতিবাদী বার্তা দিতে পেরেছেন, তাও কিন্তু নয়। পরীক্ষা দেওয়ার আগে এবং পরে বহু ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষক কান্নায় ভেঙে পড়েন। একটাই প্রশ্ন করতে থাকেন, ‘কোন অপরাধে আমাদের ফের পরীক্ষার মধ্যে ফেলা হল?’ এঁদের মধ্যে যেমন এসএলএসটি ২০১৬’র গণিতের মেধা তালিকায় শীর্ষে থাকা তরুণী রয়েছেন, তেমনই আছেন গতবার একটু বেশি বয়সে চাকরি পাওয়া মাঝবয়সি শিক্ষিকাও। তাঁদের কান্না দেখে চোখ ভিজে ওঠে অন্যান্য চাকরিপ্রার্থীদেরও। আবার নতুন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে লক্ষ্য করা গিয়েছে উৎসাহ আর দু’চোখ ভরা স্বপ্ন। অযোগ্য প্রার্থীরা যাতে ফাঁকতালে পরীক্ষায় বসে পড়তে না পারেন, তার জন্য তাঁদের নাম কলকাতা ও জেলার বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে লাল কালিতে লেখা ছিল। এমনিতেও অ্যাডমিট কার্ডের বারকোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে সেটির বৈধতা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল। তবে, প্রযুক্তির ত্রুটিতে যাতে কেউ ছাড় না পেয়ে যান, সে ব্যাপারেও নজরদারি ছিল তুঙ্গে। শুধু নজরদারিই নয়, কেন্দ্রের বাইরে থাকা পুলিসের সহযোগিতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। ধৈর্য্য ধরে পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর দেখে আগাম রুম নম্বর বলে দেওয়াই হোক বা দুশ্চিন্তায় থাকা অভিভাবকদের আশ্বাস প্রদান-তাঁদের ভূমিকায় সন্তুষ্ট সকলেই। সেই সূত্রেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাঁর এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছেন, রাজ্যের ৬৩৬টি কেন্দ্রে স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য প্রশাসন সবরকমভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।


