ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । জানা গিয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত সোমবার দিল্লিতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার আগেই মামলা দায়ের করার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হয়েও সাংবিধানিক এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এমন আইনি পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। আগামী বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা মমতার। তার ঠিক আগেই এই মামলা দায়ের করাকে রাজনৈতিক ও আইনি মহলের একাংশ মমতার সুচিন্তিত কৌশল হিসেবেই দেখছেন। সাধারণত রাজ্য সরকার বা দলের পক্ষ থেকে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হলে নির্দিষ্ট আধিকারিক বা সাংসদরা আবেদনকারী হন। কিন্তু এক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পিটিশনার হয়ে কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াইকে তিনি ব্যক্তিগত এবং প্রশাসনিক, উভয় স্তরেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। যেহেতু তিনি নিজে একজন আইনজীবী, তাই বুধবার শুনানির দিন কালো কোট গায়ে চাপিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সওয়াল-জবাব করবেন কি না, তা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে দিল্লির অলিন্দে। তৃণমূল সূত্রের খবর, মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ এবং এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই এই মামলা। রাজ্যের দাবি, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে মাইক্রো অবজারভারদের এমন যথেচ্ছ ক্ষমতা দেওয়ার কোনও আইনি সংস্থান নেই৷ অথচ কমিশনের নির্দেশে রাজ্যে প্রায় আট হাজারের বেশি মাইক্রো অবজারভার কাজ করছেন।রবিবার দিল্লি রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে কার্যত ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের এই ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এনআরসি-র মতো আতঙ্ক বা প্যানিক তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, নথিপত্র সংক্রান্ত এই আতঙ্কে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত 110 জনের মৃত্যু হয়েছে।সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, “রোজ তিন-চারজন করে ভয়ে আত্মহত্যা করছেন। এত মৃত্যুর দায় কমিশনকে নিতে হবে। আমি মানুষের আদালতে যাব, সুপ্রিম কোর্টে যাব।” হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রেও একই পদ্ধতিতে ভোট করিয়ে বিজেপি জিতেছে বলে অভিযোগ করে তাঁর হুঁশিয়ারি, “বাংলা, তামিলনাড়ু এবং কেরালা এই লড়াইয়ে জিতবে, কিন্তু অসম হারবে।” মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, তিনি আলোচনার রাস্তা খোলা রাখলেও সমান্তরালভাবে আইনি যুদ্ধের রাস্তাতেও হাঁটবেন।



