রাজনীতি

১৩০ তম সংবিধান সংশোধনী বিলকে ‘ব্ল্যাক ডে, ব্ল্যাক বিল’ বলে তোপ মমতার

১৩০ তম সংবিধান সংশোধনী বিলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের গণতন্ত্রকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে তিনি এই বিলকে অভিহিত করেছেন। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী এই বিলকে ‘ব্ল্যাক ডে, ব্ল্যাক বিল’ বলে উল্লেখ করেছেন। বুধবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বিল পেশ করেছেন তাতে বলা হয়েছে- যদি প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী গুরুতর কোনও অভিযোগে টানা ৩০ দিন হেফাজতে থেকে থাকেন এবং যদি তাঁর পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের জেল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে ৩১ দিনের দিন সেই অভিযুক্ত মন্ত্রীকে তাঁর পদ থেকে সরে যেতে হবে। এই বিল নিয়ে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের এটি একটি নতুন উপায়। কেন্দ্রের এই নয়া বিলকে যে কোনও মূল্যে আটকাতে সকল বিরোধীদের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্রকে বাঁচানোর সময় এসেছে। গণতন্ত্র, আদালতের ক্ষমতা কেড়ে নিলে মানুষ ক্ষমা করবে না।” এই বিল প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ব্ল্যাক ডে ব্ল্যাক বিল’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এটিকে ভারতীয় গণতন্ত্রের আত্মার উপর হিটলারের আক্রমণের সমান বলে ব্যাখ্যা করেছেন ৷ তাঁর মতে, এই বিল দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শেষ করতে চায়। অপসারণের সংশোধনী বিল নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কেন্দ্রের পেশ করা সংবিধান (130তম) সংশোধনী বিল প্রসঙ্গে বলেন, “কেন্দ্র জাতির সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্য সরকারকে ফেলতে সবরকম চেষ্টা করছে কেন্দ্র।” তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, রাজ্য সরকারকে ফেলার চেষ্টাতেই কেন্দ্র এই সংশোধনী বিল পেশ করেছে ৷

এই বিলে বলা হয়েছে, গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেফতার কিংবা আটক করা হলে, টানা ৩০ দিন বন্দিও থাকলে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা অন্য কোনও মন্ত্রীকে পদ থেকে সরে যেতে হবে। বিলে এই প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে যে, বহিষ্কৃত মন্ত্রীরা মুক্তি পাওয়ার পর ফের পদ ফিরে পেতে পারেন। খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি অথবা গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির মতো অপরাধের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম লাগু করতে চাওয়ার প্রস্তাব সরকারের। এটি হবে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল।