দুষ্কৃতীদের পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ছোড়া গুলিতে মৃত্যু হল হোটেল ব্যবসায়ীর ৷ পরপর কয়েক রাউন্ড গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যান ব্যবসায়ী ৷ আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় রাহুল বিশ্বাসের (34)। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত সাড়ে 10টা নাগাদ । গুলি চালিয়েই এলাকা ছেড়ে পালায় দুষ্কৃতীরা ৷ কতজন এসেছিল তা অবশ্য বলতে পারেননি স্থানীয়রা । 12 নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় । খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন ফরাক্কার এসডিপিও শেখ শামসুদ্দিন । পুরনো শত্রুতার জেরে খুন বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের । জানা গিয়েছে, মৃত হোটেল ব্যবসায়ীর বাড়ি সামসেরগঞ্জ থানার তারবাগান এলাকায় ।রাতে নতুন ডাকবাংলার নূর মহম্মদ কলেজ সংলগ্ন জাতীয় সড়কের পাশে নিজের হোটেলেই ছিলেন ব্যবসায়ী ৷ তাঁকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা । পরপর গুলিতে রীতিমতো ঝাঁঝরা হয়ে যায় ব্যবসায়ীর শরীর ৷ জানা গিয়েছে, হোটেল ব্যবসায়ী ওই যুবক আগে অন্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । মাস তিনেক থেকে নূর মহম্মদ কলেজ সংলগ্ন এলাকায় হোটেল খোলেন তিনি ।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ব্যবসায়ীর হোটেলে বসে থাকাকালীন হঠাৎ অজ্ঞাত পরিচয়ের দুষ্কৃতীরা ঢুকে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় । একটি গুলি বুকে ও একটি মাথায় লাগে । পুলিশের অনুমান পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকেই গুলি করা হয়েছে । গুলির শব্দ ও চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হতেই দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে পালায় । তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ পরে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে । যদিও জঙ্গিপুর যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় ব্যবসায়ীর । এখনও পর্যন্ত খুনের আসল কারণ কী, তা বলতে পারেনি পুলিশ বা স্থানীয়রা ৷ এদিকে ঘটনার পরেই এলাকায় ফরাক্কার SDPO-এর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী আসে । দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে । খুনের নেপথ্যে কী কারণ থাকতে পারে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ । পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের সন্ধানেও তল্লাশি শুরু হয়েছে ৷ এলাকার সিসিটিভির ফুটেজও সংগ্রহ করছে পুলিশ ৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র এলাকার ব্যবসায়ী মহলে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে । ওই এলাকার এক নিরাপত্তারক্ষী সামিউল আলম বলেন, “আমি রাতে ঘরে বসেছিলাম । তখনই দুটো গুলির শব্দ শুনতে পাই । আমি ছুটে যাওয়ার আগেই দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায় । তাদের কাউকে দেখতে পাইনি । কতজন এসেছিল জানি না । পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করেছে ।”


