Uncategorized

ফের রাজ্য পুলিশে রদবদল

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দামামা কার্যত বেজে গিয়েছে । আর কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করবে এবং রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে লাগু হয়ে যাবে আদর্শ আচরণবিধি। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ ইতিমধ্যেই রাজ্যের নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে । আর ঠিক এই আবহেই, ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের ঠিক আগে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে ফের একদফা বড়সড় রদবদল করল নবান্ন । বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে চারজন গুরুত্বপূর্ণ আইপিএস (IPS) আধিকারিকের বদলির কথা জানানো হয়েছে । সরকারি ওই নির্দেশিকায় এই বদলিকে ‘জনস্বার্থে’ বলে উল্লেখ করা হলেও, ভোটের ঠিক মুখে এই রদবদলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল । স্বরাষ্ট্র দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মূলত উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার পদে এই রদবদল ঘটানো হয়েছে । নির্দেশিকা অনুযায়ী, আলিপুরদুয়ারের বর্তমান পুলিশ সুপার খাণ্ডবাহালে উমেশ গণপতকে বদলি করে পাঠানো হয়েছে উত্তরবঙ্গের এসএস, আইবি (SS, IB, North Bengal) পদে । অন্যদিকে, রাজ্য পুলিশের এসএস, আইবি পদে থাকা আরিশ বিলালকে বসিরহাট পুলিশ জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । রদবদলের তালিকায় নাম রয়েছে বসিরহাটের বর্তমান পুলিশ সুপারেরও । বসিরহাট পুলিশ জেলার এসপি ড. হোসেন মেহেদী রহমানকে বদলি করা হয়েছে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় । তিনি এবার থেকে জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপারের দায়িত্ব সামলাবেন । পাশাপাশি, জঙ্গিপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার সাউ কুমার অমিতকে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে । নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না-আসা পর্যন্ত এই আধিকারিকরা তাঁদের নতুন পদে অবিলম্বে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন । ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যে কোনও বড় নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সবসময় নিজেদের মতো করে ঘুঁটি সাজায় । এবারের রদবদলে যে জায়গাগুলিকে বেছে নেওয়া হয়েছে – বসিরহাট, জঙ্গিপুর এবং আলিপুরদুয়ার – তার প্রতিটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল । বসিরহাট পুলিশ জেলার ভৌগোলিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক অতীত সবসময়ই সংবাদ শিরোনামে থেকেছে । অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরের কাছেই অত্যন্ত নির্ণায়ক কেন্দ্র হতে চলেছে । নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন একবার ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিলে পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনের রাশ সরাসরি কমিশনের হাতে চলে যায় । তখন রাজ্য সরকারের পক্ষে চাইলেও কোনও প্রশাসনিক বা পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা সম্ভব হয় না । তাই আদর্শ আচরণবিধি চালু হওয়ার ঠিক আগের এই স্বল্প সময়েই রাজ্য সরকার নিজেদের মতো করে প্রশাসনিক বিন্যাস চূড়ান্ত করে রাখছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা । ভোটের ঠিক আগের এই শেষ মুহূর্তের বদলি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং আসন্ন নির্বাচনী আবহে কতটা সুচারুভাবে কাজ করে, এখন সেটাই দেখার ।