প্রায় আড়াই বছর পর অগ্নিগর্ভ মণিপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ এখন রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি রয়েছে ৷ এমতাবস্থায় মোদির সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে ৷ শনিবার সকালে কুকি অধ্যুষিত চুড়াচাঁদপুরের জনসভা থেকে তিনি বিভিন্ন সংগঠনের কাছে হিংসা বন্ধের আর্জি জানিয়েছেন ৷ পাশাপাশি মণিপুরবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন, তাঁর সরকার রাজ্যের মানুষের পাশে রয়েছে ৷ মোদি সরকার আগামিদিনে মণিপুরকে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ৷ এদিন সকালে মিজোরাম থেকে মণিপুরের চুড়াচাঁদপুরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷ প্রবল বৃষ্টিতে তিনি হেলিকপ্টারের বদলে সড়কপথে চুড়াচাঁদপুরে আসেন ৷ সেখানে ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা মূল্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রজেক্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি ৷ এরপর রাজধানী ইম্ফলে যাবেন প্রধানমন্ত্রী ৷ সেখানেও ১ হাজার ২০০কোটি টাকার একাধিক প্রজেক্টের উদ্বোধন হবে ৷ এদিন প্রধানমন্ত্রী মণিপুরের উন্নয়ন নিয়ে কংগ্রেস জমানার সরকারকে দোষারোপ করেন ৷ তিনি বলেন, “এর আগে এখানে পৌঁছতে কয়েক দশক লেগে যেত দিল্লির ৷ কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে ৷ এখন মণিপুর দেশের বাকি অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নতি করছে ৷” ২০২৩ সালের মে মাসে কুকি-জো ও মেইতেই দুই জনজাতির মধ্যে সংঘর্ষের শুরু ৷ এরপর দীর্ঘ সময় অশান্তই থেকেছে উত্তর-পূর্বের এই ছোট্ট রাজ্যটি ৷ হিংসার ঘটনায় ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে ৷ ঘরছাড়া হাজার হাজার বাসিন্দা ৷ অশান্তির ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খুব দুর্ভাগ্যজনক যে, এখানে হিংসার ঘটনা ঘটেছে ৷ আজ আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ভারত সরকার আপনাদের সঙ্গে রয়েছে ৷ আমি আপনাদের সঙ্গে আছি ৷ আমি সব গোষ্ঠী ও সংগঠনগুলির কাছে আবেদন জানাব, তারা সবাই শান্তির পথ বেছে নিক ৷” তিনি জানান, উন্নয়নের জন্য শান্তি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৷ কেন্দ্রীয় সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ৷ রাজ্যে রেল ও সড়ক যোগাযোগে বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে ৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৪ সাল থেকে আমি মণিপুরের যোগাযোগের উন্নতি সাধনে বিশেষ জোর দিয়েছি ৷” ভারত শীঘ্রই তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ হয়ে উঠবে ৷ চুড়াচাঁদপুরে জানান প্রধানমন্ত্রী ৷ তিনি জনসভায় আশ্বস্ত করেন, ভারতের উন্নয়নের ফসল দেশের প্রতিটি কোনায় পৌঁছবে ৷ এই রাজ্য সাহসিকতা ও বীরত্বের ৷ সড়কপথে ইম্ফল থেকে চুড়াচাঁদপুরে আসার সময় প্রবল বৃষ্টিতেও তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে মণিপুরবাসী ৷ এর ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি ৷


