দেশ

‘ভোটার-আধার কার্ড নাগরিকত্বের একমাত্র প্রমাণ নয়’, নির্বাচন কমিশনের যুক্তি মেনে নিল সুপ্রিমকোর্ট

আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড নাগরিকত্বের একমাত্র প্রমাণ নয় ৷ আরও কয়েকটি তথ্য প্রয়োজন ৷ বিহারের এসআইআর নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার এমনটাই জানাল সুপ্রিমকোর্ট ৷ একইসঙ্গে এসআইআর নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষ আদতে বিশ্বাসের ঘাটতি বলে মনে করে শীর্ষ আদালত ৷ বুধবার ফের এই মামলার শুনানি হবে ৷ এর আগে নির্বাচন কমিশনের তরফে আদালতে বলা হয়েছিল, আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে মনে করার কোনও কারণ নেই ৷ এবার শীর্ষ আদালতও সে কথাই বলল ৷ এদিনের শুনানিতে মামলার অন্যতম আবেদনকারী আরজেডি নেতা মনোজ ঝায়ের তরফে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল বলেন, “আধার থেকে শুরু করে ভোটার এবং রেশন কার্ড থাকলেও সেগুলিকে কমিশনের তরফে বৈধ বলে গ্রহণ করা হচ্ছে না ৷” জবাবে বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “আপনি কি বলতে চাইছেন বিহারে থাকা কারও কাছে কোনও তথ্য না থাকলেও তিনি শুধু ওখানে আছেন বলে তাঁকে ভোটার হিসেব গ্রহণ করতে হবে? এটা মেনে নেওয়া যায় না ৷ তাঁকে অন্য় নথি (আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড বাদ দিয়ে) দেখাতে হবে, জমা দিতে হবে ৷ ” এরপর সিবাল জানান, বিহারের অনেক বাসিন্দা জন্মের সংশাপত্র জোগাড় করতে সমস্যায় পড়েছেন ৷ এই বক্তব্যের পাল্টা বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “বিহারের কারও কাছে কোনও তথ্য় নেই বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা আদতে সরলীকরণ ছাড়া আর কিছু নয় ৷ বিহারে যদি এই ঘটনা ঘটে তাহলে দেশের অন্যত্র কী হবে?” 

এদিন মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয় বিহারের ৭.৯ কোটি বাসিন্দার মধ্যে ৬.৫ কোটি বাসিন্দাকে নিজের বা অভিভাবকদের জন্য কোনও তথ্যই জমা দিতে হবে না ৷ কারণ তাঁদের নাম ২০০৩ সালে হওয়া বিশেষ সংশোধনের পর তালিকায় ছিল ৷ এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এসআইআর নিয়ে যে তোলপাড় হচ্ছে তা আদতে বিশ্বাসের ঘাটতি ছাড়া অন্য কিছু নয় ৷ এই মামলায় দুই প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি এবং প্রশান্ত ভূষণও সওয়াল করছেন ৷ মামলায় তাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ৷ এই দুজনই বিহারে ঠিক এই সময়ে এসআইআর কেন হচ্ছে এবং ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম কীভাবে বাদ পড়ল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ৷ এছাড়া সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও এদিনের শুনানিতে ইন-পার্সন সওয়াল করেন ৷ তিনি বলেন, “বিহারের বাসিন্দার সংখ্যা ৭.৯ কোটি নয়, ৮.১৮ কোটি ৷ এসআইআরের নকশা এমনভাবে তৈরি যার ফলে ভোটারদের নাম বাদ যাবেই ৷” অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে মামালায় সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী ৷ তিনি বলেন,” এসআইআরের মতো কোনও জটিল কাজ শুরু হলে তাতে ভুলের সম্ভাবনা থেকেই যায় ৷ আর এটাও মাথায় রাখতে হবে যে তালিকা প্রকাশ্য় এসেছে তা এখনও খসড়ার পর্যায়ে আছে ৷”