দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি ৷ বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় হিন্দু যুবক হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে জড়ো হয়েছেন শ’য়ে শ’য়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের সদস্যরা ৷ গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে তাঁরা বাংলাদেশ-বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন ৷ পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে ৷ বাংলাদেশ হাইকমিশন উচ্চ-নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় রয়েছে ৷ বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল ৷ কিন্তু বিএইচপি ও বজরং দলের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয় ৷ বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের সামনে পৌঁছে যায় ৷ প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ভিএইচপি ও বজরং দলের সদস্যরা ৷ কড়া নিরাপত্তার আওতায় থাকা এলাকায় এই অশান্তি রুখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নেমেছে ৷ এক আধিকারিক বলেন, “এই বিক্ষোভের পরিস্থিতিতে আমরা এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিয়েছি ৷ কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না-ঘটে, তার জন্য ব্যারিকেড লাগানো হয়েছে ৷ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে ৷” ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি সভাপতি মেহবুবা মুফতি ৷ এদিকে পড়শি দেশে হিন্দু মহিলাদের উপর নির্যাতনের খবর অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বলে উল্লেখ করে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তিনি ৷ সোশাল মিডিয়ায় মুফতি লেখেন, “বাংলাদেশে হিন্দু মহিলারা সিঁদুর পরে স্বাধীনভাবে ঘোরাঘুরি করতে ভয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ৷ এই খবর গভীর উদ্বেগের ৷” সম্প্রতি বাংলাদেশের ময়মনসিং জেলার ভালুকায় একটি কাপড় কারখানার কর্মী দীপুচন্দ্র দাসকে প্রথমে গণপিটুনি ও পরে রাস্তায় ঝুলিয়ে পুড়িয়ে মারা হয় ৷ ওই ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও তার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে ৷ ফের বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারে ইউনূসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ৷ ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগ উঠলেও তা পরে প্রমাণিত হয়নি ৷ বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘ঢাকা ট্রিবিউন’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে তিনি একটি কারখানায় কাজ করতেন ৷ তাঁর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় ৷ এরপর দীপুর কারখানায় বাইরে ভিড় জমতে শুরু করে ৷ পরে তাঁকে কারখানা থেকে টেন বের করে এনে বেধড়ক মারতে শুরু করে ভিড় ৷ খানিকক্ষণের মধ্য়েই তাঁর মৃত্যু হয় ৷ এই ঘটনার পর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে এক দফা বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে ৷ এনিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে ৷ হিন্দু যুবক হত্যার ঘটনায় ভারত সরকার দোষীদের শাস্তির আর্জি জানিয়েছে ৷ রবিবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লিখেছেন, “এই ঘটনায় বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রচার করছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ ৷ আমরা সেই খবরগুলি দেখেছি ৷ প্রকৃত তথ্য, ২০ ডিসেম্বর ২০-২৫ জন তরুণ নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন ৷ ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসের নৃশংস মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা স্লোগান দিচ্ছিলেন ৷ এছাড়া বাংলাদেশের বাকি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কথাও বলছিলেন তাঁরা ৷ কিন্তু এই বিক্ষোভের সময় হাইকমিশনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি ৷ কেউ নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেনি ৷”


