বিদেশ

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাহীন, বাংলাদেশে অশান্তির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ শেখ হাসিনার

ফের অশান্ত বাংলাদেশ ৷ আর দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকেই দায়ী করলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৷ তাঁর কথায়, “বাংলাদেশে হিংসার ঘটনা খুব সাধারণ বিষয় হয়ে গিয়েছে ৷ অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ায় ক্রমেই এই সমস্ত ঘটনা ঘটে চলেছে ৷” সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘটনা প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ড এক নৈরাজ্যের প্রতিফলন ৷ ঠিক এই কারণেই আমার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল ৷ ইউনূসের শাসনকালে এই নৈরাজ্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে । হিংসা এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে ৷ অথচ, অন্তর্বর্তী সরকার তা অস্বীকার করছে অথবা তা থামাতে ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছে ।” হাসিনার অভিযোগ, “এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে ৷ সেই সঙ্গে, এর ফলে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে ৷ ভারত এই বিশৃঙ্খলা, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন এবং আমরা একসঙ্গে যা কিছু গড়ে তুলেছিলাম সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেখছে । দেশের মৌলিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে না-পারলে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যায় ৷ আর এটাই ইউনূসের বাংলাদেশের বাস্তবতা ৷” গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় এক নির্বাচনী প্রচারের সময় ছাত্রনেতা ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয় ৷ তারপর থেকে ফের আশান্ত হয়ে ওঠে পদ্মাপাড়ের দেশ ৷ হাদির মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে পাথর ছোড়া হয় ৷ সারা দেশেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে ৷ সেদিন রাতেই ময়মনসিংহের ভালুকায় ২৫ বছরের এক হিন্দু যুবক দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ৷ এই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি ৷ হাসিনার অভিযোগ, সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন ইউনূস ৷ আর সেই কারণে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর ৷ সেই সঙ্গে, জামাত-ই-ইসলামির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্যও অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র নিন্দা করেন মুজিব-কন্যা ৷ বলেন, “এক সময় আমরা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ছিলাম ৷ বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ সেই বিষয়টিকেই বেশি পছন্দ করেন ৷ কিন্তু, চরমপন্থীদের মন্ত্রিসভার দায়িত্ব দিয়েছেন ইউনূস ৷ সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মুক্তি দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলিকে দেশে আশ্রয় দিয়েছেন ৷ আর ঠিক এই বিষয়টি নিয়েই আমি উদ্বিগ্ন ৷” প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি, “ইউনূস কোনও রাজনীতিক নন ৷ একটি জটিল রাষ্ট্র পরিচালনার কোনও অভিজ্ঞতা নেই তাঁর ৷ আমার আশঙ্কা, আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের মাটি শক্ত করতে ইউনূসকে ব্যবহার করছে চরমপন্থীরা ৷ এই সমস্ত সংগঠনগুলি দেশের অভ্যন্তরে পদ্ধতিগতভাবে ক্রমশ ক্ষমতা বাড়াচ্ছে ৷” তিনি আরও জানান কেবল ভারত নয়, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীল বিনিয়োগকারী প্রতিটি দেশের জন্যই বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ৷ ধর্মনিরপেক্ষতাই বাংলাদেশের প্রধান শক্তি ৷ তবে একবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলে এবং দায়িত্বশীল সরকার ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতির বদল ঘটবে বলেও জানান হাসিনা ৷ তাঁর কথায়, “দুই দেশের সম্পর্কে এই টানাপোড়েনের জন্য ইউনূস দায়ী ৷ ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য দিয়েছেন তাঁর প্রতিনিধিরা ৷ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ তাঁর সরকার ৷ দেশের বিদেশনীতি ঠিক করেন চরমপন্থীরা ৷ এর ফলে দেশে উত্তেজনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, তখন কেবল বিস্ময় প্রকাশ করেন ৷”