গত কয়েকদিন ধরেই চিকিৎসায় তেমন সাড়া দিচ্ছিলেন না বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায় । রবিবার গভীর রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি ৷ বয়স হয়ে ৬০০দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি । মুকুল পুত্র তথা কাঁচরাপাড়া পুরসভার উপ-পুরপ্রধান শুভ্রাংশু রায় জানান, মাথার উপর থেকে ছাদ চলে গেল ৷ জীবনে অনেক লড়াই জিতলেও শেষ যুদ্ধটা আর বাবা জিততে পারলেন না । দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই তিনি কোমায় আচ্ছন্ন ছিলেন । চোখ মেলেও কাউকে চিনতে পারছিলেন না । রাইলস টিউবের মাধ্যমেই তাঁকে খাবার খাওয়ানো হত । হাসপাতাল থেকে মুকুল রায়ের দেহ তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত কাঁচরাপাড়ার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে । এরপর তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে হালিশহর শ্মশানে । শাসক ও বিরোধী দলের ভেদাভেদ ভুলে রাজনৈতিক মহল আজ শোকস্তব্ধ । সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ৷ এক্স পোস্টে বাংলা ও ইংরাজি দুই ভাষাতেই লিখেছেন ৷ বাংলা পোস্টে তিনি লেখেন, “প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায় জি’র প্রয়াণে শোকাহত । তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে । তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই । ওঁ শান্তি ।”দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে হারিয়ে শোকাহত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এক্স পোস্টে মুকুলপুত্রের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি লেখেন,”প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি । তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন । তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে । প্রয়াত মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা-লগ্ন থেকে দলের জন্য প্রাণপাত করেছেন । তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন, দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল । পরে তিনি ভিন্ন পথে যান, আবার ফিরেও আসেন । বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা ভোলার নয় । দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল । এই অভিজ্ঞ নেতা ও সহকর্মীর পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই । শুভ্রাংশুকে বলব, মন শক্ত করো,এই সংকটে আমরা তোমার সঙ্গে আছি ।”
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স পোস্টে লিখেছেন, “মুকুল রায়ের মৃত্যুতে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক যুগের অবসান ঘটল । তিনি ছিলেন বিশাল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রবীণ নেতা । তাঁর অবদান রাজ্যের জনসাধারণ ও রাজনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় গঠনে সহায়তা করেছিল । সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা স্তম্ভ হিসেবে, তিনি গঠনমূলক বছরগুলিতে সংগঠনের সম্প্রসারণ ও সুসংহতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন । জনজীবনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে । আমি তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং ভক্তদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই । তাঁর আত্মার চির শান্তি কামনা করি ।”
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুকুল রায়-এর প্রয়াণের খবর পেয়ে গভীরভাবে মর্মাহত । তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইল আন্তরিক সমবেদনা । প্রার্থনা করি, তাঁর আত্মা চিরশান্তি লাভ করুক ।”


