সর্বভারতীয় স্তরে বিরোধী জোটে থাকা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) শিবিরে আবার বড়সড় ভাঙনের গুঞ্জন ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে মহারাষ্ট্র ও জাতীয় রাজনীতি। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ৬ জনই দল ছেড়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানাতে চলেছেন- এমন জল্পনা এখন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে চরম সতর্কতা অবলম্বন করে উদ্ধব শিবির তাদের সমস্ত সাংসদকে বৃহস্পতিবার এক সংসদীয় দলের বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য হুইপ জারি করেছে। দলের শীর্ষনেতা অনিল দেশাই দিল্লিতে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত ১৪ জুনের বৈঠকে সমস্ত সাংসদ উদ্ধব ঠাকরের প্রতি তাঁদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন, তবে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে দল ভাঙার খবর ছড়াচ্ছে, তাতে দলকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শিবসেনা (ইউবিটি)-র পক্ষ থেকে স্পিকার ওম বিড়লাকে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে কোনও বিদ্রোহী সাংসদকে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। পুরো বিষয়টি এখন নির্ভর করছে বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। অবশ্য শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে, একনাথ শিন্ডের শিবসেনার পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি এবং তিনি উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গেই আছেন। দলের সাংসদদের ওপর আস্থা রাখার কথা অনিল দেশাই বললেও শিবসেনা (ইউবিটি)-র অন্যতম প্রধান মুখ সঞ্জয় রাউত দলবদলের নেপথ্যে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ রাউত লিখেছেন, আপনা সপনা মানি মানি! শিবসেনা ভাঙার চক্রান্ত ও সাম্প্রতিক তৃণমূলত্যাগী সাংসদদের দিকে ইঙ্গিত করে রাউত বলেন, সাংসদদের দলবদলের ন্যূনতম মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ১৫ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয়েছে। সত্যি বলতে কী, এই মানুষগুলোর যোগ্যতা ৫০ হাজার টাকাও নয়, শিবসেনা ও তৃণমূলের ব্র্যান্ড ভ্যালুর কারণেই আজ তাঁদের দাম এত বেড়েছে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের ছেলে তথা শিবসেনা নেতা শ্রীকান্ত শিন্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে যে, উদ্ধব শিবিরের অন্তত ৬ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ ইতিমধ্যেই দেশের রাজধানীতে পৌঁছে গিয়েছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে সংসদের ভেতরেই স্পিকারের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হতে পারে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে শিবসেনা (ইউবিটি)-র দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ এদিনই শিন্ডে শিবিরে যোগ দিতে পারেন। লোকসভায় উদ্ধব শিবিরের মোট ৯ জন সাংসদ থাকায় আইন অনুযায়ী দল ভাঙতে অন্তত ৬ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন, যা শিন্ডে গোষ্ঠী পেয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই দলবদলের জল্পনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উদ্ধব শিবিরের প্রবীণ সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণতন্ত্রকে আজ একটা সস্তার বাজারে পরিণত করা হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন, আজ তাঁদেরই মুখ্যমন্ত্রী করে বসানো হচ্ছে! সাওয়ান্ত আরও যোগ করেন যে, দেশের সংবিধানকে রক্ষা করার আর্জি জানিয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই ভস্পিকারকে চিঠি লিখেছেন এবং মনে করিয়ে দিয়েছেন যে কোনও ব্যক্তিবিশেষ বা কয়েকজন সাংসদ-বিধায়ক মিলে মূল দল হতে পারে না, আসল দল উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গেই আছে। সবমিলিয়ে বৃহস্পতিবারের হুইপ জারি করা বৈঠকটিই এখন মহারাষ্ট্রের রাজনীতির ভাগ্য নির্ধারণ করতে চলেছে।