কলেজের বিভাগীয় প্রধানের যৌন হেনস্তার প্রতিবাদে গায়ে আগুন দেওয়া ছাত্রীর লড়াই থেম গেল ৷ সোমবার রাতে ভুবনেশ্বর এইমসে মৃত্যু হয় নির্যাতিতার ৷ ভুবনেশ্বর এইমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সোমবার রাত 11টা 46 মিনিটে ওড়িশার বালেশ্বরের গায়ে আগুন দেওয়া ওই কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে ৷ ভুবনেশ্বর এইমসের বার্ন আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি ৷ হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, তরুণীকে বাঁচানোর জন্য সবরকম পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর বৃক্কতন্ত্রও প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত অধ্যাপক সমীর সাহুকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল ৷ সোমবার কলেজের অধ্যক্ষকেও গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ পুলিশ রাতেই কলেজ ছাত্রীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। আজ সকালে তাঁর গ্রামের বাড়িতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ৷ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি শোকপ্রকাশ করে মৃতের পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন, এই ঘটনায় দোষী সকলকে আইন অনুসারে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন,”ফকির মোহন কলেজের ছাত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে আমি গভীরভাবে দুঃখিত। সরকারের সমস্ত দায়িত্ব পালন এবং বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিমের অক্লান্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ছাত্রীটির জীবন বাঁচানো যায়নি। আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি ৷ ভগবান জগন্নাথের কাছে প্রার্থনা করি, যেন তিনি তাঁর পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দেন ।” তিনি আরও লেখেন, “আমি মৃত ছাত্রীর পরিবারকে আশ্বস্ত করছি, এই ঘটনায় দোষী সকলকে আইন অনুসারে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। এর জন্য, আমি ব্যক্তিগতভাবে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি ৷ সরকার পরিবারের পাশে রয়েছে ৷” নির্যাতিতা বালেশ্বরের ফকির মোহন (স্বশাসিত) কলেজের বিএড-এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ৷ কলেজের এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের প্রধান সমীর সাহু তাঁকে বারবার যৌন হেনস্তা করত বলে অভিযোগ ৷ ওই ছাত্রী বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছিল ৷ কিন্তু কর্ণপাত করেনি কর্তৃপক্ষ ৷ প্রতিবাদে 12 জুলাই অধ্যক্ষের রুমের বাইরে গায়ে আগুন দেন বিএডের দ্বিতীয় বর্ষের ওই পড়ুয়া ৷ গায়ে আগুন দিয়ে এদিক-ওদিক দৌড়তে থাকেন তরুণী ৷ সেই দৃশ্য সোশাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে ৷ শনিবারই তাঁকে দগ্ধ অবস্থায় বালেশ্বরের মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ায় ভুবনেশ্বর এইমসে রেফার করা হয় ৷ তাঁর শরীরের প্রায় 90-95 শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল ৷ সোমবার রাতেই তাঁর মৃত্যু হয় ৷ ছাত্রীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ৷ এক্সে তিনি লেখেন, “বালেশ্বরের ফকির মোহন কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় আমি শোকাহত ৷ আমি ওর আত্মার চির শান্তি কামনা করি ৷ শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল ৷ এই মুহূর্তে ভগবান শ্রী জগন্নাথ পরিবারকে অপরিসীম ধৈর্য্য ও সাহস দিক ৷ ওঁম শান্তি।”


