চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের তরফে এসএসসি অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে সোমবার ৷ তার আগেই হুগলির আদিসপ্তগ্রাম স্টেশন থেকে আটক করা হল চাকরিহারা শিক্ষক আন্দোলনের নেতা তথা আহ্বায়ক সুমন বিশ্বাসকে ৷ যদিও পরিবারের দাবি, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার ভোরে ব্যান্ডেলের আশ্রম মাঠে সুমন বিশ্বাসের বাড়িতে তল্লাশি চালায় চুঁচুড়া থানার পুলিশ । পরিবারের অভিযোগ, শুধুমাত্র আন্দোলনকে স্তব্ধ করার জন্যই ভোর রাত থেকে তাঁর বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয় পুলিশ । যদিও গ্রেফতারের আশঙ্কা করে আগেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান ওই চাকরিহারা শিক্ষক । পরিবারের দাবি, পরে আদিসপ্তগ্রাম স্টেশন থেকে সুমন বিশ্বাসকে আটক করা হয় । তারপর তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি পুলিশের তরফে। মূলত যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা ও যোগ্য শিক্ষা কর্মী, যোগ্য ওয়েটিং নট কল ফর ভেরিফিকেশান ও অনশনকারী মঞ্চের আহ্বায়ক সুমন বিশ্বাস । তিনি হুগলির ব্যান্ডেলের বাসিন্দা। সুমন বেথুয়া ডহরী মেজপোতা হাইস্কুলের জীবন বিজ্ঞানের সহ-শিক্ষক ছিলেন । ১০ বছর শিক্ষকতা করার পর চাকুরিহারা হন তিনি । ১৮ অগস্ট চাকরিহারা শিক্ষকদের এসএসসি অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন সুমনই । সেই মর্মেই মেল করেছিলেন তিনি । রবিবার রাতে বাড়ি ছিলেন সুমন । ঘটনার সূত্রপাত রবিবার ৷ যখন বিধাননগর পুলিশ কমিশানারেটের ডিসি অনিশ সরকার সাংবাদিক বৈঠক করে একটি অডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ করেন । সেই অডিয়োতে সোমবার এসএসসি অফিস অভিযানে গণ্ডগোল হতে পারে এবং পুলিশকে বোমা মারার কথা বলতে শোনা যায় । আন্দোলন আদালতের নির্দেশ মেনে শান্তিপূর্ণ করার কথা বলা হলেও হিংসার আশঙ্কা করে পুলিশ সুমনের বাড়িতে তাঁর খোঁজে হানা দেয় । সুমনের পরিবারের দাবি, সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পুলিশের একটি দল তাঁর বাড়িতে আসে। তাঁর খোঁজ করে এবং বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি করে তারা ৷ সুমনের বাড়িতে অসুস্থ বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তান রয়েছেন । তাঁদের দাবি, কোন অপরাধ না-করলেও পুলিশি হেনস্তার স্বীকার হচ্ছেন তাঁরা । সুমনের স্ত্রী নীলিমা গায়েন বিশ্বাস বলেন, “আমার ধারণা পুলিশ আমাদের হেনস্তা করছে কারণ আমার স্বামী যাতে আন্দোলনের সামনে না-আসে । চেপে যায় । আমার স্বামী আন্দোলনের মুখ ৷ তিনি যাতে এসএসসি অভিযানে না-যেতে পারেন, ভয় দেখানোর জন্য এসব করছে পুলিশ । পুলিশের থেকে আর কী আশা করা যায় ৷ পুলিশ শিক্ষকদের পেটাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে স্বপ্ন দেখাও ভুল । আমি নিজেও বিএড করে বসে আছি । আমরা স্বামী অর্ধেক দিন বাড়িতে থাকে না। রাস্তায় শুয়ে থাকে । উলটে বিভিন্ন মামলা করা হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধেই ।” সুমনের ভাই সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, “আমার মা অসুস্থ । চোর ধরার মতো পুলিশ এসে বাড়িতে তল্লাশি করে । দাদার অপরাধ কী ? সে তো শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে । সুবল সোরেন মারা গেল । তাদের জন্য লড়াই করছে । দাদা আদিসপ্তগ্রাম স্টেশন থেকে আন্দোলনের জন্য যাচ্ছিলেন । সেসময় দাদাকে ধরে পুলিশ ৷ দাদাকে ধরার সময় পুলিশ কোন কথা বলতে দেয়নি । কোন থানায় নিয়ে যাচ্ছে সেটা পর্যন্ত জানায়নি । দাদার বন্ধু বিভিন্ন থানায় বাইক নিয়ে ঘুরছে । ২০১৬ সালে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়ে যোগ্য শিক্ষক হওয়াটাই দাদার অপরাধ । এই সরকারের কর্মচারী হয়ে ধর্ষিত হতে হয় । এটাই কি সরকারে মুখ । কোথায় যাব আমরা ।”