প্রতি বছরের মতো এবারও সেই ঐতিহ্যের ধারা বজায় রেখে বড়দিনের প্রাক্কালে বিশেষ প্রার্থনায় যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার রাতে ব্রেবোর্ন রোডের ঐতিহাসিক পর্তুগিজ চার্চ তথা ‘ক্যাথিড্রাল অফ দ্য মোস্ট হোলি রোজারি’তে যান তিনি। সেখানে প্রভু যিশু ও মাদার মেরির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বিশেষ প্রার্থনা সভাতেও যোগ দেন মমতা। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মা-সহ লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিকরা।প্রায় এক ঘণ্টা গির্জায় সময় কাটান তিনি। প্রার্থনা শেষে ঘুরে দেখেন গির্জা চত্বর ৷ চার্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন। এদিন বড়দিনের উৎসব উপলক্ষে শহরের রাজপথ থেকে অলিগলি- সবর্ত্রই ছুটির মেজাজ। কয়েক দিন আগেই পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে বড়দিন উৎসব তথা কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। 24 ডিসেম্বর রাতে পর্তুগিজ চার্চে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর দীর্ঘদিনের প্রথা। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। বড়দিন মানেই আনন্দ আর সম্প্রীতির উৎসব, আর সেই উৎসবের আবহে নতুন মাত্রা যোগ করতে প্রতিবারের মতো এবারও নিজের সৃষ্টিকে রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন মমতা। বড়দিন উপলক্ষে নিজের লেখা ও সুর করা একটি নতুন গান সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তিনি। গানটির প্রথম দুই লাইন- ‘শান্তির দীপ এসো ঘরে ঘরে/ তুমি প্রভু এসো হৃদয় জুড়ে’। মুখ্যমন্ত্রীর লেখা এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়। গানটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তা সমাজমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেল এবং ফেসবুক পেজে গানটি শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “শান্তির দীপ এসো ঘরে ঘরে/ তুমি প্রভু এসো হৃদয় জুড়ে… সকলকে জানাই মেরি ক্রিসমাস। এই উপলক্ষে আপনাদের সবার সঙ্গে আমার লেখা ও সুর করা এবং শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাওয়া একটি নতুন গান শেয়ার করে নিচ্ছি।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গানের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মানুষের কাছে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। বড়দিনের উৎসবে যাতে জাতপাত নির্বিশেষে সকলে সামিল হতে পারেন, সেই ভাবনাই ফুটে উঠেছে তাঁর এই নতুন সৃষ্টিতে। বুধবার রাতে চার্চে থাকাকালীন মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অন্যদিকে, বড়দিনকে কেন্দ্র করে শহর কলকাতায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি চোখে পড়ার মতো। পার্ক স্ট্রিট থেকে শুরু করে গির্জা সংলগ্ন এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ। এদিন পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও পরোক্ষভাবে দেখে নেন। উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং শান্তি-শৃঙ্খলার বজায় রাখতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। এদিন চার্চ থেকে বেরোনোর সময় উপস্থিত মানুষের ভিড় দেখে হাসিমুখে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 24 ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের রেশ চলবে নতুন বছরের শুরু পর্যন্ত ৷

