সংসদে পেশ হওয়ার আগেই খারিজ হয়ে গেল দেশের মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের প্রস্তাব । মার্চ মাসে সংসদের উভয় কক্ষে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব আনতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছিল বিরোধীরা । বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বেও এ নিয়ে চর্চা হয়নি । আর সোমবার একযোগে প্রস্তাব খারিজ করলেন রাজ্য়সভার চেয়ারম্যান তথা উপ-রাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছে কংগ্রেস থেকে শুরু করে তৃণমূল-সহ একাধিক বিরোধী দল । সমালোচনা করতে গিয়ে সুকশৌলে প্রাক্তন উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ । কটাক্ষের সুরে প্রতিবাদ করেছেন রাজ্য়সভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক’ ও ব্রায়েনও । এমন একটা কিছু হতে চলেছে তা তিনি আগাম অনুমান করেছিলেন দাবি করে ডেরেক এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে লেখেন, সংসদকে তামাশায় রুপান্তরিত করার কোনও সুযোগই ছাড়ছে না বিজেপি । পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিকবার জ্ঞানেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় তৃণমূল সরকার । একাধিক অভিযোগ নিয়ে দিল্লি এসে নির্বাচন সদনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন জ্ঞানেশ তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন মমতা । জানিয়ে দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তাঁর পদ থেকে সরাতে সংসদে প্রস্তাব আনা হবে । এরপরই কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী দলগুলিকে পাশে নিয়ে নোটিশ আনার প্রক্রিয়া শুরু করেন তৃণমূল সাংসদরা । মার্চ মাসে এই সংক্রান্ত দুটি নোটিশ লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও জমা পড়ে । তাতে মোট সাতটি কারণের কথা বলেছিল বিরোধীরা । ভোটারদের নাম গণহারে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধে পাইয়ে দিতে কাজ করা এবং নির্বাচনী বন্ড সংক্রান্ত তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছিল । কিন্তু এবার তা খারিজ হয়ে গেল । রাজ্যসভার পাশাপাশি লোকসভার মহাসচিব যথাক্রমে চেয়ারম্যান এবং স্পিকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন । এর আগে মার্চ মাসের 13 তারিখ দেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে প্রথমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে একজোট হয়ে পদক্ষেপ করে বিরোধীরা ৷ জ্ঞানেশ কুমারকে হঠাতে সেদিন প্রস্তাব পেশ হয় সংসদের দুই কক্ষে ৷ কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের বিরোধী সাংসদরা এই অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশে স্বাক্ষর করেন ৷ এমনকী কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিও এই ব্যাপারে এগিয়ে এসেছিল ৷ লোকসভার 130 জন এবং রাজ্যসভার 63 জন সাংসদ এই নোটিশে স্বাক্ষর করেছিলেন ৷ কয়েকজন নির্দল সাংসদও এই নোটিশে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে শোনা গিয়েছিল সে সময় ৷
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদটি সাংবিধানিক। এই পদে থাকা কারও বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনতে হলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর আবশ্যক। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা বর্তমানে ৪১ (মৌসম বেনজির নূর ইস্তফা দেওয়ার পর)। ফলে বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শরিক দলগুলির কাছে সমর্থন চায় তৃণমূল। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিরোধী শিবিরের ১৯৩ জন সাংসদ (লোকসভার ১৩০ জন, রাজ্যসভার ৬০ জন) নোটিসে সই করেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও কক্ষেই এই প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয় নি।

