মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাবের নোটিশ লোকসভা এবং রাজ্যসভায় যেভাবে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ আসাংবিধানিক। বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরাসরি এই অভিযোগ এনেছে তৃণমূল-সহ বিরোধীদলগুলি। সংসদের পথ রুদ্ধ হওয়ায় এবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এককথায় ইমপিচমেন্ট নোটিশ খারিজ করে দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে বিরোধীরা। তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এদিন সাংবাদিকদের বলেন, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে স্বাধীনতার পর এই প্রথম মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে অপসারণের জন্য লোকসভা ও রাজ্যসভায় নোটিশ দিয়েছিল বিজেপি- বিরোধী দলগুলি। ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার জন্য লোকসভায় ১০০ জন ও রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলেও সব মিলিয়ে স্বাক্ষর করেছিলেন ১৯৩ জন। শেষপর্যন্ত এগিয়ে এসেছেন ২০টি দলের ৩০০ জনেরও বেশি সাংসদ। তৃণমূলের উদ্যোগেই কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, আপ, আরজেডি, শিবসেনা (উদ্ধব), এনসিপি, এসপি, সিপিএম, সিপিআই-সহ বেশ কিছু আঞ্চলিক দল জোটবদ্ধ হয়েছে। ডেরেকর যুক্তি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিক অনুযায়ী ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার মোট ৬টি ধাপ আছে। প্রিসাইডিং অফিসারদের কাজ ছিল শুধুমাত্র প্রস্তাবের প্রাথমিক যাচাই করা। কিন্তু বিরোধীদের প্রস্তাবে পদ্ধতিগত কোনও ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও লোকসভায় ও রাজ্যসভায় তা খারিজ করে দেওয়া হল। এটি অসাংবিধানিক।