তৃণমূল থেকে ত্রিপুরার এনসিপিআই-তে যাওয়া সাংসদদের পাশাপাশি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা সাংসদদের সঙ্গেও কথা বলবেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা ৷ গতকাল এই মর্মে আলোচনার জন্য তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছিলেন তিনি ৷ স্পিকারের তরফে জারি হওয়া নোটিশে অভিষেককে দুঘণ্টার মধ্যে সংসদের কার্যালয়ে আসতে বলা হয় ৷ সেই সময় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ইডির দফতরে ছিলেন তিনি ৷ তাই মাত্র ২ ঘণ্টায় সেখানে পৌঁছনো সম্ভব ছিল না ৷ সূত্রের খবর, সোমবার বেলা ২টোর সময় অভিষেককে অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে দিল্লিতে হাজিরার মেল পাঠানো হয় ৷ তাঁকে বিকেল 4টের সময় ওম বিড়লার কার্যালয়ে হাজির দিতে বলা হয় ৷ এর কিছুক্ষণ পরেই অধ্যক্ষের দফতর থেকে সাংসদ কীর্তি আজাদকে ফোন করে মেইল করার বিষয়টি জানানো হয় ৷ বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ অধ্যক্ষের কার্যালয়কে জানান, অভিষেক তদন্তে সহযোগিতার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ ৷ তিনি কলকাতায় সিজিও কমপ্লেক্সে তদন্তে সহযোগিতা করছেন ৷ পরে কীর্তি অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে সরাসরি কথা বলেন ৷ আরও পরে রাত দশটা নাগাদ নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তে প্রায় প্রায় 11 ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরন অভিষেক ৷ গত রবিবার, 14 জুন নয়াদিল্লিতে দিনভর নাটকের পর শেষে জানা যায়, ত্রিপুরার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে মিশে যাবেন তৃণমূলের 20 জন সাংসদ ৷ সেদিন সকালেই নয়াদিল্লিতে পৌঁছন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, আবু তাহের, খলিলুর রহমান, অরূপ চক্রবর্তী, মালা রায়, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, ডা. শর্মিলা সরকার, অভিনেতা দেব, জগদীশ বাসুনিয়া, মিতালি বাগ, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার, অসিত মাল, কালীপদ সোরেন-রা ৷

সেখানে প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক করেন তাঁরা ৷ এরপর বিকেলে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে 20 জন সাংসদের সই করা চিঠি তাঁর হাতে তুলে দেন কাকলি-সুদীপরা ৷ এরপর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “20 জনের সই করা চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে ৷ লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা সবার সই যাচাই করে নিয়েছেন ৷ তৃণমূলের প্রতীক কার, সেটা আদালত ঠিক করবে ৷” চুঁচুড়ার সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন এই দলে ছিলেন না ৷ মঙ্গলবার তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছে ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছেন বলে খবর ৷ এদিকে রবিবার বিরুদ্ধাচরণ করা এই সাংসদদের দিল্লিতে বৈঠকের মাঝে ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থা রাখা দুই সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ ৷ লোকসভার তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, “আমরা অধ্যক্ষ ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে আবেদন জানিয়েছি ৷ এর আগে তাঁকে ইমেলে আবেদন করেছি ৷ তিনি ছিলেন না ৷ তাঁর কার্যালয়ে চিঠি জমা দিয়েছি ৷ সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ রায়ে জানিয়েছে, কোনও দলে এভাবে ভাঙন হতে পারে না ৷ মহারাষ্ট্রে যা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি ৷ আশা করি, মাননীয় স্পিকার আইন অনুযায়ী কাজ করবেন ৷ আমাদের আবেদন তিনি গ্রহণ করেছেন ৷” এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ও লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেন, “তৃণমূলের কোনও কথিত পৃথক গোষ্ঠী বা উপদলকে কোনও প্রকার স্বীকৃতি, মর্যাদা বা সুবিধা প্রদান করবেন না ৷ এবং উপরে উল্লিখিত কোনও বার্তা যদি আপনার কাছে তাহলে সে বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের বক্তব্য শুনবেন ৷” এদিকে, তৃণমূলের কাকলি ঘোষদস্তিদার জানান, এনসিপিআই তাঁদের 20 জন সাংসদদের দলে নিতে রাজি হয়েছে ৷ এই সংখ্যা 20 থেকে বেড়ে 22 হতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি ৷