banganews.net

মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বিজেপির তিন সাংসদ- মহেশ কেওয়াত, তরুণ চুঘ এবং রজনীশ আগরওয়ালকে নোটিস ধরাল জবলপুর হাইকোর্ট। নোটিস দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং রিটার্নিং অফিসারকেও। প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজনের দায়ের করা একটি নির্বাচনী রিট পিটিশনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর। মধ্যপ্রদেশে থেকে মীনাক্ষীকে রাজ্যসভায় পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু মনোনয়নের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় একটি ফৌজদারি মামলার কথা গোপন করার অভিযোগে তাঁর মনোনয়নপত্রই বাতিল করে দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতেই এমন পদক্ষেপ করা হয়। যদিও মীনাক্ষী মামলা গোপন করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কংগ্রেস জানিয়েছিল, মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে বাস্তবে এমন কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে শুধু একটি নোটিস পাঠিয়েছিল আদালত। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ। কিন্তু সেই যুক্তি মানেনি কমিশন। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসেবে মধ্যপ্রদেশে বিজেপির দু’টি এবং কংগ্রেসের একটি আসনে জয় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মীনাক্ষীর প্রার্থিপদ বাতিল হয়ে যাওয়ায় তিনটি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতেন বিজেপির প্রার্থীরা। এ নিয়ে মীনাক্ষী সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি শীর্ষ আদালত। তারা জানিয়েছিল, নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে রিট পিটিশনের মাধ্যমে মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টিকে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। সেই মতোই জবলপুর হাইকোর্টে মামলা করেন মীনাক্ষী। কংগ্রেস নেত্রী মূলত মহেশ কেওয়াতের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে মামলাটি করেছেন। কিন্তু সকলকেই নোটিস ধরানো নিয়ে আদালতের ব্যাখ্যা, এই মামলার রায় গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপরেই পড়তে পারে। অর্থাৎ মনোনয়ন বাতিলকে আদালত যদি ভুল বলে রায় দেয়, তবে শুধু এক জন নন—বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিন বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাঁদের সাংসদ পদও বাতিল হতে পারে। তাই আদালত সকলকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিয়েছে।