banganews.net

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির গণপরিবহণে বিধিনিষেধ নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন । ১০ অক্টোবরের নির্দেশ অমান্য করে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী । তাঁর দাবি, শীর্ষ আদালত পরিবহণ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়ার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার পরেও দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে । এই অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং ডিএমআরসি-র চেয়ারপার্সন ডি তারা-র বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার পদক্ষেপ করার আর্জি জানানো হয়েছে । শীর্ষ আদালতে আবেদনকারীর দাবি, বিক্ষোভের নিরাপত্তার অজুহাতে রাজধানীর গণপরিবহণের উপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে । তাই অবিলম্বে এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা করারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি ।যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই দিল্লিতে এই কড়াকড়ি । মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে । ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা । বিক্ষোভের সম্ভাবনা মাথায় রেখে দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে । মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ রাখা, রেল পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয় ।কিন্তু এই পদক্ষেপ কতটা প্রয়োজনীয় এবং তার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা প্রভাব পড়ছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট । আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পরিবহণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে গোটা শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থামিয়ে দিতে হবে । এমনকি গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ আদালত এও বলেছিল, “মাছি মারতে কেউ হাতুড়ি চালায় না !” সেই নির্দেশের পরেও 45টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ।আবেদনকারীর বক্তব্য, আদালতের নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল গণপরিবহণ সম্পূর্ণ অচল না করে নিরাপত্তা বজায় রাখা । কিন্তু বিপুল সংখ্যক স্টেশনের প্রবেশ ও নির্গমন বন্ধ রাখলে যাত্রীদের চলাচলে বড়সড় বাধা তৈরি হয় । প্রতিদিন কাজ, পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা অন্য জরুরি প্রয়োজনে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকা থেকে রাজধানীতে আসেন বহু মানুষ । মেট্রো পরিষেবায় এমন বিধিনিষেধ তাঁদের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করতে পারে । দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলেও বিধিনিষেধ থাকলে সমস্যার মাত্রা আরও বাড়তে পারে । এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার পদক্ষেপ করার পাশাপাশি পরিবহণের উপর থেকে ব্যাপক বিধিনিষেধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছেন ত্রিপাঠী । এখন নজর, আবেদনটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং দিল্লির মেট্রো ও রেল পরিষেবা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন কোনও নির্দেশ দেয় কি না ।