বিগত চার মাসের সরকারি কাজকর্মের পর্যালোচনা এবং দল ও প্রশাসনের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। কলকাতার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এছাড়া রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) ফিডব্যাক এবং আগামী পুরসভা নির্বাচনকে (সামনে রেখে এই বৈঠকে একাধিক বড় রণকৌশল চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। গত চার মাসে রাজ্য সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক ভূমিকা কেমন ছিল, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ হয় এদিনের বৈঠকে। সরকার, প্রশাসন এবং সংগঠনের মধ্যে যাতে কোথাও কোনো ফাঁক না থাকে এবং নিখুঁত সমন্বয় বজায় থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। দল এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে উভয় পক্ষকেই সমানভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে সঙ্ঘ পরিবারের (RSS) দেওয়া সুনির্দিষ্ট ফিডব্যাক নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরএসএসের জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি অরুণ কুমার। সরকারের ব্লুপ্রিন্ট কেমন হওয়া উচিত, তা বৈঠকে পেশ করেন সুকান্ত মজুমদার।
বিধানসভা নির্বাচনে বড় সাফল্যের পর এই প্রথম কোনো বড় ভোট পরীক্ষার মুখোমুখি হতে চলেছে সরকার। তাই এদিনের বৈঠকে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে কলকাতা ও হাওড়া সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভার ভোট পরিকল্পনার ওপর। সূত্রের খবর, আগামী কালীপুজোর পরই রাজ্যজুড়ে পুরভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৭ বা ২৮ নভেম্বর একসঙ্গে কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং—এই সাতটি পুরসভায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতে পারে এবং ডিসেম্বরের শুরুতেই ফলপ্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। মোট ৬,৩০১টি বুথে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরপর আগামী বছর ফেব্রুয়ারি নাগাদ রাজ্যের বাকি পুরসভাগুলিতে ভোট হতে পারে। সমস্ত পুরসভা নিজেদের দখলে রাখতে এখন থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।

