রাজ্যের শিল্পচিত্রে বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে ৷ শুধু শিল্পই নয়, পাহাড়ের পর্যটনেও এবার নয়া দিগন্ত খুলে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলল। কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত একটি দীর্ঘ রোপওয়ে তৈরির প্রস্তাবে আগ্রহ দেখাল আদানি গোষ্ঠী। কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। নবান্ন সূত্রের খবর, এদিনের হাইপ্রোফাইল বৈঠকে পাহাড়ের বুকে মেগা প্রজেক্ট নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত রোপওয়ের দৈর্ঘ্য হতে চলেছে প্রায় 25 থেকে 30 কিলোমিটার। কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত এই রুট তৈরি হলে পর্যটকদের যাতায়াতের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই পাহাড়ের অর্থনীতিতেও জোয়ার আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের রুট ঠিক কোন দিক দিয়ে যাবে, কোথায় কোথায় স্টেশন থাকবে, ঠিক কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবং কত টাকা লগ্নি হবে, তার কোনও চূড়ান্ত রূপরেখা এখনও স্থির হয়নি। নবান্ন সূত্রে খবর, সরকারি স্তরে প্রকল্পটি সিলমোহর পেলে তবেই নিয়ম মেনে আন্তর্জাতিক টেন্ডার বা দরপত্র ডাকা হবে। প্রশাসনের একাংশের মতে, ওই দরপত্রে অংশ নেওয়ার বিষয়ে রীতিমতো প্রস্তুত আদানি গোষ্ঠী।
উত্তরাখণ্ডে শোনপ্রয়াগ থেকে কেদারনাথ পর্যন্ত দেশের অন্যতম কঠিন রোপওয়ে প্রকল্পের দায়িত্ব ইতিমধ্যেই নিজেদের ঝুলিতে পুড়েছে আদানি এন্টারপ্রাইজেস। হিমালয়ের দুর্গম পরিবেশে কাজ করার সেই অভিজ্ঞতাই দার্জিলিংয়ের প্রস্তাবিত রোপওয়ে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ চড়াচ্ছে ৷ প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, পাহাড়ের এই সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে খোদ গৌতম আদানি ব্যক্তিগতভাবে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যে আদানির কর্মসূচি নিয়ে রাজ্যবাসী চোখ ছিল। সকালে নিউটাউনে ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর আনুষ্ঠানিক ভূমিপুজোতে সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি। রাজ্যে মেগা বিনিয়োগের বার্তা দিয়ে সেখানেই তিনি ঘোষণা করেন, “2035 সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী আদানি গোষ্ঠী।” তাঁর এই বক্তব্য রাজ্যের শিল্পমহল এবং বেকার যুবসমাজের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ এত বিপুল অঙ্কের লগ্নি এলে রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
নিউটাউনের অনুষ্ঠানে বন্দর, লজিস্টিকস, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন থেকে শুরু করে সিমেন্ট কারখানা এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার— একাধিক ক্ষেত্রে লগ্নি করার কথা এদিন উঠে এসেছে আদানির কথায়। সেই সম্ভাব্য বিনিয়োগের খাতেই রোপওয়ের প্রসঙ্গটিও বেশ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন তিনি। সকালে এই ঘোষণার পরেই দুপুরে ‘সৌজন্য’ ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধিস্তরের বৈঠক করেন গৌতম আদানি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রাজ্যের সার্বিক শিল্প পরিস্থিতি এবং দার্জিলিং রোপওয়ের মতো নির্দিষ্ট মেগা প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়।

