অশান্ত মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার সেখানকার ৩৬টি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে চলেছে রাজ্য সরকার ৷ শনিবার মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচন্দ সিং জানিয়েছেন, অশান্ত মণিপুরে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকারের তরফে ৩৬টি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে ৷ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মণিপুরের সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, সেখানকার সমস্ত সম্প্রদায়কে একত্রিত করার মতো কোনও কমিটি রয়েছে কি না, মোদির সেই প্রশ্নের পরেই রাজ্য সরকার এই কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৷ সেখানকার বিভিন্ন উপজাতির প্রধানদের সংবর্ধনা দেওয়ার অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা করেন ইউমনাম খেমচন্দ সিং ৷ ‘মেরা হাউ চোংবা উৎসব ২০২৬’-এর অংশ হিসাবে প্যালেস কম্পাউন্ডে উপজাতীয় পার্বত্য প্রধানদের জন্য একটি অতিথি নিবাস উদ্বোধনের পরপরই এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় ৷ মণিপুরের ভূমি, পরিচিতি ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের যে আত্মত্যাগ রয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে খেমচন্দ সিং অ্যাংলো-মণিপুর যুদ্ধ এবং ‘সাত বছরের ধ্বংসলীলা’র (সেভেন ইয়ার্স ডিভাস্টেশন) কথা স্মরণ করেন ৷ তিনি বলেন, “মণিপুর ও তার ঐতিহ্যকে রক্ষা করার কাজে সব সম্প্রদায়েরই অবদান রয়েছে ৷” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই উৎসব শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করবে ৷ খেমচাঁদ সিং আনন্দ প্রকাশ করেছেন যে, পাহাড়ি এলাকার মানুষ, যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আগে ইম্ফলে আসতে অনিচ্ছুক ছিলেন, তাঁরাও এ বছর উৎসবে যোগ দিয়েছেন ৷ তিনি বলেন, “এই অতিথি নিবাসটি কেবল একটি কাঠামোই নয়, বরং পাহাড় ও উপত্যকার মধ্যেকার ভ্রাতৃত্বের প্রতীক ৷ মেরা হাউ চোংবা উৎসবটি রাজ্যের বিভিন্ন উপজাতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে উদযাপন করার জন্য পালন করা হয় ৷

